কলকাতায় প্রথম বরফ, বদলে যাবে সমুদ্রের রঙ
অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়
আজ এই বিভাগে তোমাদের দুটি বিষয়ে জানাব। এক, কলকাতায় প্রথম কবে বরফ এলো, সেই গল্প। আর একটি সমুদ্র বিষয়ে। এখন আমরা সমুদ্রের জল দেখি নীলাভ। বিজ্ঞানীদের মতে, এই শতাব্দীর শেষে সমুদ্রের জলের রঙ সবুজ দেখাবে। কেন এই পরিবর্তন–সেটাই বলব তোমাদের।

কলকাতার মানুষ প্রথম বরফ দেখে ১৮৩৩ সালে। সুদূর আমেরিকার বস্টন থেকে আসত সেই বরফ। বস্টনে শীতে খুব বরফ পড়ে। বরফে চারদিকে সাদা হয়ে যায়, বিশেষত জলাশয়গুলো। সেই বরফ কেটে ধুয়ে কাঠের গুঁড়ো দিয়ে ভালমত প্যাক করে জাহাজে পাঠানো হতো কলকাতায়। বরফ আমদানির এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন জন ফ্রেডরিক নামের এক সাহেব। জাহাজে করে বরফ আনতে চার মাস সময় লাগত।
চারমাসের দীর্ঘ জাহাজযাত্রায় বরফ পথেই অর্ধেক গলে জল হয়ে যেত। ২০০ টনের জায়গায় ১০০ টন এসে পৌঁছত কলকাতায়। এদেশের শাসক ব্রিটিশ সাহেব-মেমরা মজা করে খেতেন সেই বিদেশী বরফ। আম বাঙালি কিন্তু প্রথম প্রথম সে বরফ খেত না, এড়িয়ে চলত। ভাবত, কী জানি বাবা কী আছে ওতে! কিন্তু ক্রমে ক্রমে তা গ্রহণ করছিল বাঙালিরাও। বরফের দাম দু’আনা সের। কলকাতায় ওই বরফ ব্যবসা চলেছিল দীর্ঘ ৫০ বছর। তারপর সে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, ততদিনে কলকাতায় বরফ-কল তৈরি হয়ে গেছে।

দূর থেকে সমুদ্রের জল নীল বলে মনে হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন–এই শতাব্দীর শেষে সমুদ্রের জল সবুজ দেখাবে। বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য। গবেষকদের বক্তব্য–সমুদ্রের জলে মিশে থাকা অতি ক্ষুদ্র শৈবালকণা, যার অন্য নাম ’ফাইটোপ্লাংটন’, হলো সবুজ। এরা সূর্যের আলোয় সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে ও পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহ করে। ২৩০০ সালের কাছাকাছি নাগাদ উষ্ণায়নের জন্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা তিন ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বেড়ে যাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, উষ্ণতর জল পেয়ে ওই ফাইটোপ্ল্যাংকটনের সংখ্যা জলে বিপুলভাবে বেড়ে গিয়ে সমুদ্রের জল দূর থেকে নীলাভর পরিবর্তে সবুজাভ দেখাবে।
◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250