ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / ডিসেম্বর ২০২৫

ডিসেম্বরে জমজমাট শীত-উৎসব

শীত মানে বড়দিন, পিঠে-পুলি, মেলা,

ঘোরাঘুরি, পিকনিক সারাদিন খেলা।

সূর্যের মিঠে রোদ, কনকনে হাওয়া

এসময় সেরে নাও যত চাওয়া-পাওয়া।

 

 

ডিসেম্বর এলেই প্রকৃতির রূপ যেন বদলে যায় এক নতুন ছন্দে। ভোরবেলায় ঘন কুয়াশা, ঠান্ডা হাওয়ার ছোঁয়া আর শিশিরভেজা ঘাসের উপর সূর্যের মিষ্টি আলো–সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি। মানুষ পরতে শুরু করে উষ্ণ পোশাক। শীত মানেই পিঠে-পায়েস, কেক-পেস্ট্রি, নানান রকম সবজির প্রাচুর্য আর উৎসবের আমেজ। শহর ও গ্রামের মানুষ মেতে ওঠে পিকনিক, সার্কাস, মেলা ও নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

 

 

ছোট্টো বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো, প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয় বড়দিন হিসেবে। এই দিনেই যিশুখ্রিস্টের জন্ম হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি বিশেষ দিন। যদিও শুধু খ্রিস্টান ধর্মের মানুষই নন, সারা বিশ্বের সব ধর্মের মানুষই এই আনন্দময় উৎসবে সামিল হন। বাড়িঘর ও গির্জা সেজে ওঠে ক্রিসমাস ট্রি, বেলুন ও অন্যান্য উপকরণে। আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পথঘাট। চলে খাওয়াদাওয়া ও উপহার বিনিময়। আর তোমরা তো জানোই, বড়দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছোটোদের খুব প্ৰিয় সান্তাক্লজ এবং ক্রিসমাস ক্যারল। মনে রাখতে হবে, বড়দিন শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বড়দিন শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক।

 

 

তোমাদের জানাই, এই ডিসেম্বরেই সারা বিশ্বে জন্মগ্রহণ করেন কয়েকজন কিংবদন্তি বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ। আজ তেমনই দু’জন সম্পর্কে বলব তোমাদের। প্রথমজন স্যার আইজাক নিউটন। তিনি ছিলেন ইংরেজ গণিতবিদ, পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার জনক। বিজ্ঞানের নানা শাখায় তাঁর অবদান যুগান্তকারী। নিউটনের জন্ম ১৬৪২ সালে, ২৫শে ডিসেম্বর। মৃত্যু ১৭২৭ সালের ২০শে মার্চ। তাঁর প্রধান অবদান গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র। দ্বিতীয়–মাধ্যাকর্ষণ ও মহাকর্ষ সূত্র। এছাড়াও  তিনি প্রমাণ করেন যে সাদা আলো আসলে বিভিন্ন বর্ণে বিভক্ত।  সংক্ষেপে বলা যায়, নিউটন আধুনিক বিজ্ঞানের  অগ্রগতির দিশারী ।

 

শ্রীনিবাস রামানুজন ছিলেন বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান গণিতবিদ, যিনি গণিতের বহু জটিল ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন। তাঁকে বলা হয় ‘গণিতের জাদুকর’। তাঁর জন্ম ২২শে ডিসেম্বর ১৮৮৭, ভারতবর্ষের তামিলনাড়ুতে। দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মানুষটির ছোট থেকেই গণিতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। রামানুজনের কাজ মূলত সংখ্যাতত্ত্ব। ১৯১৮ সালে Royal Society-র ফেলো নির্বাচিত হন রামানুজন। এছাড়া আরও নানা বিরল সম্মান লাভ করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে মাত্র ৩২ বছর বয়সে, ২৬শে এপ্রিল ১৯২০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ভালো থেকো সবাই।

 

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট

 


পাঠকদের মন্তব্য

Tanuja Chakraborty লিখেছেন... ১৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫
ছোট্ট পরিসরে কী সুন্দর করে শীতের রূপের বর্ণনা ! সঙ্গে দুই কিম্বদন্তির জন্মদিন সম্পর্কে সবাইকে অবগত করা। খুব ভালোলাগল।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up