ছোটোদের চাঁদের হাসি / ছড়া - কবিতা / ডিসেম্বর ২০২৫

ছড়া-কবিতা

মামাবাবু শীতে কাবু

কাজী মুরশিদুল আরেফিন

 

মাঘ মাসে বাঘমামা

কাঁপে খুব ঠান্ডায়,

নদী তীরে এত শীতে

এই বুঝি প্রাণ যায়।

 

ডোরাকাটা জামা গায়ে

কাঁথা চাই একখান,

মাফলার পেলে ভালো

ঢাকা যাবে নাক-কান।

 

চিৎকার করে রিমি

মামা কেন কাতরাও,

এত শীতে জলে নেমে

নদী কেন সাঁতরাও?

 

সুন্দরবনে মামা

রাতে কাশো খক খক,

এত শীতে চা বা কফি

খাও নাকি ঢক ঢক?

 

ঠান্ডায় জেগে বসে

রাতটুকু হয় পার,

ওই দূরে রোদে বসে

হাই উঠে বারবার।

 

জেঠু বলে বাঘ দেখে

আজ ভরে গেল পেট,

বাংলোতে ফিরে চলো

পড়ি জিম করবেট।।

 

 

লালপাখি

অচিন্ত্য সুরাল

 

এক যে ছিল গাছ

তার তো অনেক ডাল

ডালগুলোতে ফুল ফোটে না

সে আজ কতকাল।

 

সেই গাছ মনমরা

হলুদপাতা ঝ'রে

গাছটা প্রায় শুকিয়ে গেল

এবার যাবে ম'রে।

 

কোত্থেকে এক পাখি

রঙটা পুরো লাল

বসল এসে গাছের চূড়ায়

উঠল ন'ড়ে ডাল।

 

এ-ডাল সে-ডাল ঘুরে

সেই পাখি একদিন

শুকনো ডালে বাঁধল বাসা

পাড়ল বাসায় ডিম।

 

দিন ফুরিয়ে যেতেই

সূর্য-জাগা ভোরে

দেখল সবাই কচিপাতায়

গাছ গিয়েছে ভ'রে।

 

পেরিয়ে সময় কিছু

গাছ উঠল দুলে

কিচিরমিচির আওয়াজ শুনেই

সাজল সে লালফুলে।

 

কয়েক দিনের পর

পাঁচখানা লাল ছানা

পাঁচদিকে মুখ ক'রে তারা

মেলল তাদের ডানা।

 

উড়াল দেওয়ার আগে

বলল তাদের মা'কে

"শুকনো গাছ দেখতে পেলেই

বাঁচিয়ে দেব তাকে"।

 

কী থেকে কী হলো

বুঝতে তো নেই বাকি

শুকনো গাছ বাঁচায় যারা

তারাই তো লালপাখি।।

 

 

রূপসী বাংলা

উৎপলকুমার ধারা

 

জীবনানন্দ আর কি আসতে পারে

যে মাটির বুকে ভাসছে বারুদ গন্ধ

যে সবুজ ভূমি ঢেকেছে অন্ধকারে

ধর্ম নিয়ে চলেছে নানান দ্বন্দ্ব !

 

রূপসী নদীর জল আজ উত্তাল

তাই সে নদীর ঘোলাজলে আর আজ

ছোট্ট ডিঙায় কিশোর তোলেনা পাল

ধুয়েমুছে সাফ শ্রাবস্তির কারুকাজ !

 

যে দেশের হাওয়া বিষাক্ত বিদ্বেষে

চারিদিকে শুধু হানাহানি রাহাজানি

ভুলেও তো আর কোনোদিনো সেই দেশে

জীবনানন্দ আসবেনা আর জানি !

 

তবুও আশা, শান্তি আসুক ফিরে

আবার সে দেশে ঠাঁই নিক যতো সুখ

ভোরের সূর্য কালোমেঘ টিকে চিরে

সাজাক রূপসী বাংলা মায়ের মুখ !!

 

 

শীতের ভোরের পাখি

দীপঙ্কর গোস্বামী

 

শীতের ভোরে পাখি ওড়ে

আকাশের ওই গায়ে,

দেখতে হলে আয়রে খোকা

গুটিগুটি পায়ে।

 

ঘুম জড়ানো চোখে জানি

আছিস ঘুমের ঘোরে,

আইতো বলি আয় ধীরে আয়

ছুটলে যাবি পড়ে।

 

আসছে পাখি, যাচ্ছে পাখি,

মিছিল করে নানা;

চোখ তুললেই জাগবে মনে

প্রশ্ন যে একখানা–

 

যাচ্ছে পাখি কোন সুদূরে,

কোন সে অজানায়;

নাড়িয়ে ডানায় ভরিয়ে আকাশ

এঁকে আলপনায়?

 

দেখবি তখন আনমনা মন

হঠাৎই এক ফাঁকে—

খুশির ডানায় উড়বি তুইও

পাখিদের ওই ঝাঁকে!

 

 

অভিলাষ

টুম্পা মিত্র সরকার

 

কতবার করে বলেছি তোমায় বেঁধোনা তাহাকে ঘরে

ডানা মেলে দিয়ে উড়ে যেতে দাও অনন্ত পরিসরে৷

 

রূপকথা মোড়া শব্দের ঘোরে থাক সে নিজের মতো

আঁধারের মাঝে বেঁধে রাখা তাকে নয় মোটে অভিপ্রেত !

 

রামধনুকের সাতরঙে সে যে হয়ে ওঠে রঙদার

তবেই না হয় ফুল পাখি চাঁদ সেই রঙে একাকার ৷

 

আমার কবির হৃদয় দুয়ারে কেউ তুলোনাকো খিল

তার সোহাগেই হেসে ওঠে যত রৌদ্র মাখানো বিল৷

 

কবিতার বুকে কবিকে তোমরা দাও শান্তির বাস

কোনো বন্ধনে বেঁধো না তাহাকে.. এইটুকু অভিলাষ ৷

 

 

পাখিদের পাঠশালা

কণিকা দাস

 

একটি বাবুই বাসা বানায়

তমাল গাছের ডালে

দুইটি শালিক ঝগড়া করে

গানের তালে তালে।

তিনটি চড়ুই খাচ্ছে খাবার

উঠোনের ঐ ঘাসে

চারটি ফিঙে উড়ে এসে

বসে যে যার পাশে।

পাঁচটি কাকের কা-কা রবে

পাড়া মাথায় ওঠে

ছয়টি পায়রা ভয় পেয়ে তাই

আকাশ পানে ছোটে।

সাতটি ঘুঘু দুপুর বেলায়

ডাকে আপন মনে

আটটি টিয়া খাবার খোঁজে

ঘুরে বনে বনে।

নয়টি কোকিল সেগুন গাছে

আয়েশ করে থাকে

দশটি ময়ূর সব পাখিদের

যত্ন করে রাখে।

 

 

গাছ দেয়

তুহিন কুমার চন্দ

 

গাছ দেয় ছায়াখানি আর দেয় বায়ু

গাছপালা বাড়িয়েছে আমাদের আয়ু।

তুমি কেন গাছ কাটো চুপি চুপি বনে

গাছ বোনো,কেটোনাকো বলি জনে জনে।

 

আমাদের পাড়া গাঁয়ে আম জামরুল

গাছে সুখে বাসা বাঁধে পাখি, ভীমরুল।

অক্সিজেনের ট্যাংক আছে রাখা গাছে

নিঃশ্বাস নিতে পারি গাছেদের কাছে।

 

পারো যদি গাছ বোনো ফাঁকা পেলে মাটি

গাছপালা জীবনেতে সবচেয়ে খাঁটি।

গাছ দেয় জলবায়ু বাঁচায় জীবন

বাড়াও অক্সিজেন জীবনের ধন।

 


পাঠকদের মন্তব্য

তুহিন কুমার চন্দ লিখেছেন... ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫
অসাধারণ সব সংখ্যা। আমি মন দিয়ে পড়ি এবং আমার ২.৩ মাসের নাত নিকে পড়ে শোনাই।ভীষণ আনন্দে বারবার শুনতে চায়।বারবার ওকে পড়ে শোনাই।
Tanuja Chakraborty লিখেছেন... ১৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫
সবকটি ছড়াই খুব উন্নতমানের। মন ভরে গেল পড়ে।
Mrityunjay Debnath লিখেছেন... ১৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫
মুরশিদুলদা মজার লেখায় বরাবর সিদ্ধহস্ত। শীত নিয়ে কবিতাটিও তাই। আর সকলের কবিতাও মন কাড়ল।
কণিকা দাস লিখেছেন... ১৯শে ডিসেম্বর, ২০২৫
খুব ভালো লাগলো নিজের নাম দেখে। আর প্রত্যেকের ছড়া দারুণ মজার।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up