ছোটোদের চাঁদের হাসি / তোমাদের পাতা / সেপ্টেম্বর ২০২৬

তোমাদের পাতা

◾লেখা

 

তিন সাগরের রানি কন্যাকুমারী

 

 

কন্যাকুমারী হলো ভারতের দক্ষিণের শেষ স্থলভাগ। এর পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর ও দক্ষিণে ভারত মহাসাগর—তিনটি সাগরের মিলন ঘটেছে বলে একে ‘তিন সাগরের রানী‘ বলা হয়। ওকন্যাকুমারী আগে কেপ কেমরিন নামে পরিচিত ছিল। ভারতের পর্যটন মানচিত্রের উজ্জ্বল এই কেন্দ্রে বেড়িয়ে এলাম কিছুদিন আগেই।

 

প্রায় সাড়ে ৪১ ঘন্টার ট্রেনজার্নি করে সকাল সাড়ে নটা নাগাদ কন্যাকুমারী স্টেশনে পৌঁছলাম। নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছে ঘর থেকেই দেখলাম বিবেকানন্দ রক ও সমুদ্র। দেখে আনন্দে আমার মন ভরে উঠল। প্রায় দুদিনের ট্রেনযাত্রায় ক্লান্ত ছিলাম। স্নান করে খেয়ে দেয়ে রওনা দিলাম কন্যাকুমারী রক মেমোরিয়াল দেখতে। সে এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা ! টিকিট কেটে মেমোরিয়াল লঞ্চে চেপে বসলাম। সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে চলল লঞ্চ। পাঁচ মিনিটেই রক মেমোরিয়ালে এসে পৌঁছলাম।

 

 

 

সমুদ্রের মধ্যে একটি বিশাল পাথরের দ্বীপের ওপর নির্মিত এই রক মেমোরিয়াল। ১৮৯২ সালে স্বামী বিবেকানন্দ সাঁতার কেটে এখানে এসেছিলেন। তারপর এখানে বসেই ধ্যান করেছিলেন। রকের পাশেই অবস্থিত বিখ্যাত তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের পাথরের মূর্তি। এই দুটি অংশকে সমুদ্রের উপরে গ্লাস ব্রিজ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে, যা ভারতের প্রথম গ্লাস ব্রিজ। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে যাবার সময় একটু ভয় লাগলেও নিচে নীল জলরাশি পাথরের উপর আছড়ে পড়ছে দেখে মন ভালো হয়ে গেল। এবার আবার লঞ্চে মূল ভূখণ্ডে ফিরে এলাম।

 

এরপর গেলাম সমুদ্রের পাশে অবস্থিত তিন হাজার বছরের পুরনো ভগবতী আম্মান মন্দিরে। মন্দিরের ভেতরে কুমারী দেবীর মূর্তি প্রদীপের আলোয় দেখতে হয়। এই অভিনব দর্শনের পরেই গেলাম গান্ধী মেমোরিয়াল মণ্ডপম দেখতে। এখানে মহাত্মা গান্ধীর চিতাভস্ম সাগরে বিসর্জনের আগে সাধারণ মানুষের জন্য রাখা হয়েছিল। এমন ভাবে এই মণ্ডপম তৈরি, ২রা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন সূর্যের আলো ঠিক এই স্থানে পড়ে। এখান থেকে আমরা অপূর্ব সুন্দর সূর্যাস্ত দেখলাম, যা অনেক দিন মনে থাকবে।

 

পরের দিন ভোরবেলা চলে গেলাম আরব সাগরে সূর্যোদয় দেখতে। ভোরবেলা থেকেই তিনসাগরের সঙ্গমে লোকজনের ভিড় লেগেই থাকে। এরপর আমরা দোসা খেয়ে ব্রেকফাস্ট সারলাম। তারপর কন্যাকুমারীর আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। একে একে দেখলাম বালাজি মন্দির, ভারতমাতা মন্দির, সাঁইবাবা মন্দির, সুচিন্দ্রম্ মন্দির।

 

এবার দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত লাল ডাব খেয়ে চলে গেলাম ভারতের প্রথম ওয়াক্স মিউজিয়াম দেখতে, যা কন্যাকুমারী স্টেশনের কাছে অবস্থিত। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি দেখলাম ও ছবি তুললাম। সন্ধ্যায় দেখে নিলাম কন্যাকুমারীর বিখ্যাত মসলা বাজার। এত রকমের মসলা কোনদিনও আমি একসাথে দেখিনি। পরের দিন ভোরবেলা কন্যাকুমারীকে বিদায় জানিয়ে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরলাম।      

 তমোঘ্ন বসাক, ১২ বছর

 


 

◾আঁকা

 

ওই দেখো উঁকি দেয় সূয্যিমামা

ঝিলাম চ্যাটার্জি, ৫ বছর


প্রণাম মুরলীধর

শৌভিক কর্মকার, ৬ বছর


জয় জগন্নাথ

কাজী ইভান আরেফিন, ৭ বছর


রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ

ঋষিকা বিশ্বাস, ৭ বছর


দুষ্টু-মিষ্টি বেড়াল-পুতুল

ঐশীকি চক্রবর্তী, ৮ বছর


প্রজাপতি প্রজাপতি

দৈবী ব্যানার্জি, ৮ বছর


হাঁস চলে পুকুরজলে

শুভাঙ্গী দত্ত, ৯ বছর


অবুঝ সবুজ টিয়াপাখি 

আমারিসা হার্টম্যান, ৯ বছর


মুকুট মাথায় রানি

অদ্রিজা পাল, ১০ বছর


জাহাজ ভাসে সাগরজলে

সমৃদ্ধি মুখার্জি, ১০ বছর


পথিক চলে পথে পথে

বিদিশা হালদার, ১৮ বছর


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up