ছোটোদের চাঁদের হাসি / তোমাদের পাতা / নভেম্বর ২০২৫

তোমাদের পাতা

লেখা–

 

দিল্লির দরবারে 

 

 

প্রতিবছরই আমরা কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাই। বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দর্শনীয় স্থানগুলো চোখে দেখা নয়, সেখানকার শিল্প-সংস্কৃতি, ইতিহাস আবহাওয়ার  সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে অজানাকে জানা। এই যেমন, গতবছর কালীপুজোর ছুটিতে আমরা ভারতের রাজধানী দিল্লি শহরে পৌঁছে দেখলাম ইতিহাস ও আধুনিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। 

 

দিল্লিতে পৌঁছে, আমরা প্রথমে গেলাম পুরনো দিল্লির শাহজাহানাবাদে অবস্থিত লাল বেলে পাথরে তৈরি লালকেল্লা বা রেড ফোর্ট দেখতে। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার শাসনকালে এই বিশাল কেল্লাটি যমুনা নদীর তীরে নির্মাণ করেছিলেন। দুর্গটির ভিতরে দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ ও মিনা বাজার, যা সেই সময়ে বেগম ও মহিলাদের জন্য তৈরি–এখনো পর্যটকদের  নজর কাড়ে।

 

লালকেল্লার কিছু অংশ অবশ্য এখন সেনাবাহিনীদের দূর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রী লাহোরি গেট সংলগ্ন স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন। এর কিছুটা দূরেই অবস্থিত লাল বেলেপাথর ও‌ মার্বেলে তৈরি জামা মসজিদ। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আমরা মসজিদে প্রবেশের অনুমতি পেলাম ন। মসজিদ সংলগ্ন অঞ্চল থেকে চাঁদনী চক বাজার পর্যন্ত যানজট, দু-পাশের দোকানপাট দেখে মনে হলো–এটি মোঘল আমলে বেশ সমৃদ্ধশালী অঞ্চল ছিল।

 

 

দ্বিতীয় দিনে আমাদের মূল আকর্ষণ ছিল রাইসিনা হিলস-এ অবস্থিত রাষ্ট্রপতি ভবনের অন্দরমহল ঘুরে দেখা। বর্তমানে এটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সরকারি বাসভবন। ব্রিটিশ আমলে এই প্রাসাদ ছিল ভারতের ভাইসরয়ের সরকারি আবাস। বলা বাহুল্য, এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কড়া! দুমাস আগে থেকে অনলাইনে টিকিট কেটে রাখা হয়েছিল। সেই টিকিট নিয়ে বারবার যন্ত্রের সাহায্যে আমাদের পরীক্ষার পর রাষ্ট্রপতি ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পেলাম। ভিতরে সুবিশাল বাগান ও ভবনকে সামনে থেকে দেখে বিস্মিত হলাম।

 

এরপর গাইড আমাদের অশোক মন্ডপ, গণতন্ত্র মন্ডপ, জাদুঘর ও বিশাল খাবার ঘর–সব ঘুরে দেখালেন। জেনে রাখা ভালো,  চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনের নির্দিষ্ট কিছু কক্ষই  পর্যটকদের দেখার অনুমতি মেলে। কুতুব-উদ্দিন আইবেকের  তৈরি পাঁচতলা বিশিষ্ট কুতুব মিনার দেখে ‌বইয়ের পাতার ছবি মনে হল। এই মিনারের বিভিন্ন স্তরের নকশা ও খোদাই করার স্তম্ভ একদা দিল্লির মুসলিম শাসনের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে  দাঁড়িয়ে। প্রবেশের মুখে আলাই দরওয়াজা আজও দেশ-বিদেশের পর্যটককে অবাক করে। এছাড়াও কুতুব কমপ্লেক্সে অবস্থিত কুয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ, আলাই-মিনার‌, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দ্বারা নির্মিত লৌহস্তম্ভ–যা ইতিহাসের গৌরব বহন করে চলেছে। দিল্লি দেখার মূল আকর্ষণ হলো হলুদ ও লাল বেলে পাথরের তৈরি ইন্ডিয়া গেট, সূর্যাস্তের পর যা তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। তখন আমরা নিজেদের ভারতীয় বলে গর্ব অনুভব করি। এর পাশেই আছে ভারতীয় সৈনিকদের স্মরণে তৈরি অমর জওয়ান জ্যোতি। 

 

 

তৃতীয় দিনের শুরু হলো মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিস্থল দেখার মধ্যে দিয়ে। হুমায়ুনের মৃত্যুর পর তাঁর পত্নী এই সমাধি সৌধ নির্মাণ করেছিলেন, যা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম উদ্যান সমাধিক্ষেত্র। দিল্লিতে রয়েছে বাহাই সম্প্রদায়ের উপাসনার স্থান লোটাস টেম্পল, যার বিশাল আকৃতি মানুষকে আকৃষ্ট করে। ৪০ মিটার উঁচু পদ্মফুল আকৃতির এই মন্দিরের ভিতরে সর্ব ধর্মাবলম্বী মানুষের জন্য উপাসনা-কক্ষ রয়েছে। দেখলাম দিল্লির বিখ্যাত রাজ-ঘাট–এখানে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী এবং আরও অনেক মহান নেতা ও খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বসহ ১৮ জন সদস্যকে দাহ করা হয়। চোখ টানে দিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরের কারুকার্য। এখানে ভগবান স্বামীনারায়ণের মূর্তি আছে এবং সন্ধ্যায় যে লাইট এন্ড সাউন্ড প্রদর্শনী হয়, সেটা এককথায় অবর্ণনীয়। 

 

আরো অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন দিল্লির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অল্প কয়েকদিনে দিল্লির সব দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। আমরা চাঁদনী চকের বিখ্যাত পরোটা গলি থেকে বিভিন্ন রকমের পরোটার স্বাদ নিতে ভুলিনি। এছাড়া বিভিন্ন রকম চাট ও কাবাবের জন্য এই শহর বিখ্যাত। অনেককিছু দেখা হলো। বাকি রইল অনেক! একরাশ মনখারাপকে সঙ্গী করে ইতিহাস, স্থাপত্য ও শিল্পকলার কেন্দ্র ভারতের রাজধানী শহরকে পরে কখনো আরো জানার আশা নিয়ে রাজধানী এক্সপ্রেসে উঠে বাড়ির পথে পা বাড়ালাম।

 তমোঘ্ন বসাক, ১২ বছর

ছবি ঋণ ইন্টারনেট                                                                                                                            


 

 আঁকা–

 

হাঁটি হাঁটি খরগোশ

ঝিলাম চ্যাটার্জি, ৪ বছর


 বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

আদৃত মুখার্জি, ৭ বছর  


সিদ্ধিদাতা গণেশ

কাজী ইভান আরেফিন, ৭ বছর  


শুভ্রবরণ রাজহংস

দৈবী ব্যানার্জি, ৭ বছর


নাওখানি বাঁধা আছে নদীর ঘাটে

আরাধ্যা চ্যাটার্জি, ৭ বছর


 রঙে-রঙে ছবি আঁকি

শ্রোত্রিয় মজুমদার, ৯ বছর


 হুপহাপ হনুবাবু

সৃজিত মল্লিক,  ১০ বছর


ভগৎ সিং অমর রহে

অদ্রিজা পাল, ১০ বছর


 শক্তিরূপেন

অস্মিতা মৈত্র, ১২ বছর


পাঠকদের মন্তব্য

Tanuja Chakraborty লিখেছেন... ১১ই নভেম্বর, ২০২৫
অপূর্ব!! প্রত্যেকটি ছবি খুব যত্ন করে আঁকা। মনটা ভরে গেল দেখে।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up