ছোটোদের চাঁদের হাসি / তোমাদের পাতা / মার্চ ২০২৬

তোমাদের পাতা

◾গল্প

 

 

কালো ছায়ার রহস্য

 

একটি বিশাল জায়গা জুড়ে একটি অফিস। সেটা নিউ টাউনে অবস্থিত। ওখানে আমার ছোটকাকা কাজ করেন। এটি একটি নাম করা অফিস। দুপাশে দুটি বড় বড় বিল্ডিং আছে ওখানে। আরো বেশ কিছু অফিস তৈরি হচ্ছে। কাকার এক বন্ধু কৃষ্ণ ওই বিল্ডিং-এর নাইট গার্ড। ওর কাজ শুধু রাতে ঘুমানো। সিড়ির নিচে একটা ছোট্ট ঘরে কৃষ্ণকাকা ঘুমাতো। একদিন মাঝরাতে একটা আওয়াজে ওর ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে দেখে উল্টোদিকের বিল্ডিং থেকে কালো ছায়ার মতো কেউ যেন এগিয়ে আসছে !

 

      কৃষ্ণকাকা বালিশের নিচ থেকে মোবাইল বের ক’রে টর্চলাইট জ্বালাতেই ছায়ামূর্তিটা ভ্যানিশ হয়ে গেল। আবার টর্চ বন্ধ করলে ছায়াটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এবার কৃষ্ণকাকা চিৎকার করে উঠলো। ওর চিৎকার শুনে পাশের বিল্ডিং-এর নাইট গার্ড দৌড়ে এল। দুজনে মিলে টর্চ দিয়ে চারদিক খুঁজতে লাগলো, কিন্তু কোথাও কিছু মিললো না। পরদিন রাতে কৃষ্ণকাকার কিছুতেই ঘুম আসছিল না। কেবলই কালো ছায়ার কথা মনে পড়ছিল। এইভাবে চিন্তা করতে করতে যখন চোখ লেগে আসছিল, তখনই আবার একটা শব্দে ওর ঘুম ভেঙে গেল। আবার সেই কালো ছায়া। ছায়ার মাঝখানে একটা মানুষের চেহারা। চোখ দুটো জ্বল জ্বল করছে। এই দেখে কৃষ্ণকাকার অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা।

 

      কোনো মতে রাতটা কাটিয়ে পরদিন সকালে ছুটতে ছুটতে আমাদের বাড়িতে এলো। হাঁপাতে হাঁপাতে এসে ছোটকাকাকে বলল আমি আর ওই অফিসে কাজ করবো না, ওখানে ভূত আছে। ছোটকাকাই ওকে চাকরিতে ঢুকিয়েছিল। তাই ছোটকাকা ধমক দিয়ে বলল কী আবোল-তাবোল বকছিস! কিসের ভূত? কৃষ্ণকাকা বললো, বিশ্বাস কর ভাই আমি তিনদিন ধরে একই রকম কালো ছায়া দেখছি। প্রথমে আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর একটা ছায়ামূর্তি সামনে এসে দাঁড়ায়।

 

    তোর মাথা ঠিক আছে তো? চল আজ রাতে আমি তোর সঙ্গে ঘুমাব, দেখি কোথায় কালো ছায়া !

     ঠিক আছে, তুই থাকবি তো ভাই?–বলে, কৃষ্ণকাকা।

     পরদিন রাতে ছোটকাকা ওর সঙ্গে রাতে ঘুমোতে গেল। ছোটকাকাতার ৮ ব্যাটারি টর্চ লাইটটা সঙ্গে নিয়ে গেল। মাঝরাতে আবার সেই আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল দুজনের। আবার সেই কালো ছায়ার মধ্যে দুটো চোখ জ্বলজ্বল করা মূর্তি দেখা গেল। এবার ছোটকাকা জোরালো টর্চের আলো জ্বালতেই একটি কালো বিড়ালকে ছুটে পালাতে দেখা গেল। আর আওয়াজ? সিঁড়ির উপরে দিনের বেলায় লেবাররা চা খেয়ে মাটির ভাঁড় জমিয়ে রাখে। বিড়ালের পায়ে লেগে ভাঁড়গুলো নিচে পড়ে ভেঙে গিয়ে আওয়াজ হয়। ওই নির্মীয়মান বিল্ডিং-এর পিছনে বস্তির কিছু লোক রোজ রাতে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহায়। ওই টায়ারের কালো ধোঁয়াই পাশের খোলা জানালা দিয়ে ওই বিল্ডিং-এ ঢুকে ছায়ার রূপ নেয়।                                

 

প্রজ্ঞান ঘোষ, ১০ বছর


◾ছবি

 

লাল-সবুজে সেজেছে প্রকৃতি

ঝিলাম চ্যাটার্জি, ৪ বছর


 খেলার সাথী রঙিন বল

অক্ষরা মিত্র, ৫ বছর


ফুলে ফুলে নেচে যায় মৌমাছি

কাজী ইভান আরেফিন, ৭ বছর


রঙের খেলার এই সভাতে

আদৃত মুখার্জি, ৭ বছর


গাঁয়ের পথে চলেছে ওই বালিকা

অদ্রিজা সান্যাল, ৯ বছর


জাল ফেলে মাছ ধরে জেলে

প্রাদিত্য সাহা, ১০ বছর


ত্রিনয়নী মা যে আমার

সৃজিত মল্লিক, ১০ বছর


খুকুমণি যায় লাল জামা গায়

গৌরী গাইন, ১১ বছর


পূব আকাশে উঠল জেগে সুয্যিমামা

রঙ্গিত চ্যাটার্জি, ১৩ বছর


শীতের বেলার ধূসর ছবি

মঞ্জিমা সেনশর্মা, ১৬ বছর


ফুল ফুটেছে ডালে ডালে

বিদিশা হালদার, ১৮ বছর

 


পাঠকদের মন্তব্য

তনুজা চক্রবর্তী লিখেছেন... ১২ই মার্চ, ২০২৬
প্রতিটা সংখ্যাই একে অপরকে টপকে যাচ্ছে। ভালো থেকে খুব ভালো হয়ে উঠছে। এবারের গল্প আর আঁকা সবকটাই অতি সুন্দর। মন ভরে গেল। পরের সংখ্যার জন্য অপেক্ষা করে রইলাম। সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা জানাই।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up