ছোটোদের চাঁদের হাসি / তোমাদের পাতা / এপ্রিল ২০২৬

তোমাদের পাতা

◾ ভ্রমণকাহিনি

 

কমলালেবুর রাজ্যে

 

 

শীতকালে কমলালেবু খেতে সবার ভালো লাগে। আর সেই কমলালেবুর গাছ যদি চোখের সামনে দেখতে পাওয়া যায়, সেখানে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই রকমই একটি কমলালেবুর গ্রামে একবার বেড়াতে গিয়েছিলাম। গ্রামটির নাম সিটং। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত এই গ্রাম অবশ্য কমলালেবুর গ্রাম বলেই পরিচিত। এক শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ নভেম্বর মাসের শুরুতে আমি বাবা ও মায়ের সঙ্গে সিটং বেড়াতে গিয়েছিলাম। আগে আমি দার্জিলিং গিয়েছি। তবে, কোনও পাহাড়ি গ্রামে থাকার অভিজ্ঞতা এই প্রথম।

 

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর, হোমস্টে থেকে পাঠানো নির্দিষ্ট গাড়ি চড়ে সিটং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। যাবার পথে রিয়াং নদীর উপর যোগীঘাট ব্রিজ দেখতে নামলাম। সেখানে ঠান্ডা কনকনে পাহাড়ি নদীতে পা ভিজিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গেলাম পরবর্তী গন্তব্যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত মংপুতে। তবে, সেদিন সরকারি ছুটি থাকায় রবীন্দ্র ভবনে ঢুকতে পারলাম না। সিটং যাওয়ার সময় পথের দু'পাশে সিঙ্কোনা গাছ দেখলাম, যা থেকে কুইনাইন তৈরি হয়।

 

 

হোমস্টে-তে পৌঁছতে দুপুর হয়ে গেল। দোতলা কাঠের বাড়িতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। এক একটি ঘরের নাম এক একটি পাখির নাম অনুযায়ী রাখা হয়েছে। আমাদের ঘরটির নাম ছিল হর্নবিল। ঝুপ করে সন্ধে নামতেই চারপাশে দেখি নিকষ অন্ধকার। দূরে সৈনিকদের ক্যাম্পে ও পাহাড়ের ওপারে দার্জিলিং শহরে টিমটিম করে আলো জ্বলছে, ঠিক যেন কোনও ছবির মতো লাগছে। রাতে খুব জোরে জলের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম, কাছেই একটি ঝর্ণা আছে। সারাদিন ক্লান্ত থাকায় ডাইনিং রুমে হোমস্টে-র বাকি অতিথিদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম।

 

পরদিন সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে বেরিয়ে দেখি চারিপাশে সবুজ, তার উপর সূর্যের আলো পড়ে কী সুন্দর লাগছে ! এরপর আমরা গাড়ি করে সিটং-এর চারপাশে ঘুরতে বেরিয়ে প্রথমেই দেখলাম অনেক বছরের পুরনো লেপচাদের মনাস্ট্রি। এরপর আপার সিটং-এর বিখ্যাত  দ্রষ্টব্য স্থান 'I Love Sittong'-এ অনেক ছবি তুললাম। পথের দু-পাশে কমলালেবুর গাছ ও বিভিন্ন রকমের ফুলের গাছ দেখতে দেখতে অহলধারা ভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। সেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব পরিষ্কার দেখা যায়। কিন্তু, সেদিন খুব মেঘ থাকায় দেখতে পেলাম না।

 

 

তবে, মন ভালো হয়ে গেল কমলালেবুর বাগান দেখে। চারপাশে শুধু লেবু, যদিও সব লেবু তখনও পাকেনি। উপরের দিকে কিছু লেবু দেখে মনে হচ্ছে প্যাস্টেল রং দিয়ে কেউ কমলা রং করে দিয়েছে। সেইসব দেখার আনন্দ নিয়েই হোমস্টে-তে ফিরে এলাম। পরের দিন পাইন বন ও নামথিং পোখরি দেখতে গেলাম। সেখানে বর্ষাকালে গোল্ডেন স্যালামাণ্ডার দেখা যায়। পোখরি কথার অর্থ হলো 'লেক'।

 

এরপর গাড়ি করে যত উপরের দিকে উঠতে থাকলাম, যেন তত গাঢ় হতে থাকলো বনের মধ্যে ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ। মনে হচ্ছিল কে যেন একটানা গান করে চলেছে। এইভাবে পৌঁছে গেলাম মহলদিরাম চা-বাগানে। এত বড় সুন্দর করে সাজানো চা-বাগান আমি আগে দেখিনি। চারপাশে মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, মেঘ ও সূর্য যেন লুকোচুরি খেলছে। পরের দিন হোমস্টে থেকে আমাদের বিদায় সম্বর্ধনা জানানো হলো। আমরা আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরে গেলাম দার্জিলিং শহরের দিকে। সেখানে কিছু দিন কাটিয়ে ফিরে এলাম কলকাতায়।

       

তমোঘ্ন বসাক, ১২ বছর


◾ছবি

 

আমার আলমারি

ঝিলাম চ্যাটার্জি, ৪ বছর


ফুল বলে

নিধীশ সেনগুপ্ত, ৪ বছর


প্রজাপতি প্রজাপতি

সানভি পুরোকায়স্থ, ৫ বছর


দুই বোন

শৌভিক কর্মকার, ৬ বছর


 নীল আকাশের নিচে সবুজ মাঠ

কাজী ইভান আরেফিন, ৭ বছর


মহারাজ, তোমারে সেলাম

কিয়াশ মুখার্জি, ৮ বছর


 লাগলো যে দোল

ঐশীকি চক্রবর্তী, ৮ বছর


নৌকা ভাসে নদীর বুকে

দৈবী ব্যানার্জি, ৮ বছর


মা পাখি আর বাচ্চারা

শুভাঙ্গী দত্ত, ৯ বছর


প্রণাম গণেশ বাবাজি

অদ্রিজা সান্যাল, ৯ বছর


মেঘবরণ কেশরাশি

অস্মিতা মৈত্র, ১২ বছর


এসো রঙ খেলি দলে দলে

শতভিষা দাস, ১২ বছর


জয় হনুমানজি

সুরজিৎ ঘোষ, ১৩ বছর


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up