ছোটোদের চাঁদের হাসি / জেনে নিতে মানা নেই / জুন ২০২৬

ভূত-পেত্নীরা সত্যি কোথায় থাকে?

 

ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই ভূতের গল্প শুনতে এবং পড়তে ভালোবাসো? তাই বলে তোমরা কি ভূতে বিশ্বাস করো বা ভূতে ভয় পাও? তোমাদের জানাই, সব জাতের মানুষই ভূত-পেত্নীদের অস্তিত্বে অল্পবিস্তর বিশ্বাস করে। আর সব ধর্মেই রয়েছে ভূত-পেত্নীদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসের কথা। মাঝে মাঝে খবরের কাগজের পাতায় ভূতদের টিকে থাকার ব্যাপার নিয়ে ফলাও করে খবর-টবরও ছাপা হয়। অনেকে আবার তাঁদের নিজের চোখে দেখা ভূতের গল্পও শুনিয়ে থাকেন।

 

বিজ্ঞানীদের মতামত কিন্তু এক্ষেত্রে অন্যরকম। তাঁরা মনে করেন, ভূতের অস্তিত্ব নেহাৎ একটা কাল্পনিক ব্যাপার। বিজ্ঞানসম্মত তথ্যের বিচারে ভূত দেখার ঘটনা হলো মন বা চোখের বিভ্রম (ভুল)। একটা জিনিসের সত্যি সত্যি অস্তিত্ব থাকলেও বিভ্রম দেখা দেয়, যখন আমাদের চোখ বা মন তাকে অন্যভাবে দেখতে চায়। মরুভূমিতে যে মরীচিকা দেখা যায়, সে-ও এক ধরনের বিভ্রম। দারুণ তেষ্টায় ছটফট করতে করতে মনে হয়, সামনে যেন একটা বিরাট পুকুরে জল টলমল করছে। তেষ্টা মেটানোর জন্য পুকুর ধারে পৌঁছতে গিয়ে দেখা যায় যে পুকুরটা যেন খালি দূরে সরে যাচ্ছে। যতই চেষ্টা করা যাক-না-কেন জল আর পাওয়া যায় না।

 

এ ধরনের বিভ্রমকেই বলা হয় অমূল প্রত্যক্ষ (hallucination)। এই অমূল প্রত্যক্ষ, বা, যা নেই তাকে দেখার ব্যাপারটা ঘটে, যখন নানা কারণে মনের উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে বা একটা সংশয় দেখা দেয়। আবার কোনও ধরনের নেশা করলেও এরকমটা হতে পারে। আর সেই অবস্থায় মানুষ অনেক কিছুই শুনতে পায়, আশ্চর্য ও অদ্ভুত অনেক কিছুই দেখতে পায়। ভয়ংকর ভূতুড়ে সেইসব দেখে-শুনে ভয় পায়, আর তখনই ভূত-পেত্নীদের আমদানি হয়। কাজেই বুঝতে পারছ, ভূতের ব্যাপারটা আদতে কল্পনা। তাই সেসব গল্পেই ভালো। বাস্তবে ভূতের ভয়কে প্রশ্রয় না দেওয়াই ভালো।

 

ধুলো কি আমাদের কোনো কাজে লাগে?

 

 

আমরা অনেকেই ভাবি যে ধুলো নিশ্চয়ই আমাদের পক্ষে শুধুই ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের এরকম ধারণা করাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। ধূলোরও প্রয়োজন আছে বইকি। পৃথিবীর বুক থেকে, জল থেকে সূর্যের তাপে এবং অন্য বহু কারণে যে বাষ্প (Water vapour) উপরে উঠে যায়, তাকে ধরে রাখে ধুলো। তারপর একসময় বাষ্প হয়ে যায় মেঘ এবং  বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীতে ঝরে পড়ে। তাই বাতাসে ধুলোর পরিমান কম হলে বৃষ্টি হতে দেরিও হতে পারে। ধুলোর আর এক কাজ হল সূর্যের আলোকে নানাদিকে ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে সূর্যাস্তের পর সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার নেমে আসে না, চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে গোধূলির আভা। সূর্য ওঠার সময় আর ডোবার সময় যে লাল দেখায় তা-ও বাতাসে ধুলো থাকার জন্য। তা হলে দেখছ তো ধুলো একেবারে অকাজের নয় !!!

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

nitishbasu07@gmail.com লিখেছেন... ১৪ই জুন, ২০২৬
খুব ভালো লাগলো । আমিও ভূত পেত্নী বিশ্বাস করি না। কিন্তু এখন ভূত পেত্নীর গল্পই অনেক পত্রিকাতে বের হয়।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up