গাছপালার নামকরণ
প্রকৃতি চট্টোপাধ্যায়

তোমরা সকলেই নিশ্চয়ই বাড়ির চারপাশে বা রাস্তাঘাটে নানা ধরনের গাছপালা দেখতে পাও। তাদের কারো কারো নাম তোমরা জানো, কারো হয়তো জানো না। প্রসঙ্গত জানাই, গাছের নামকরণ বিষয়টা মূলত প্রজাতিগতভাবে হয়। এই নামকরণের ব্যাপারটা কিন্তু দারুণ মজার। এসো, জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে গাছেদের নামকরণ হয় !
ভাষার ক্রমবিকাশের সময় থেকে বিভিন্ন গাছপালার একটির থেকে অন্যটির পার্থক্য বোঝার জন্য বিভিন্ন নামকরণ হয়েছে। কোনো কোনো নাম শুধু অন্য ভাষা থেকে আমাদের কাছে এসেছে। আবার কিছু নাম উৎপত্তিস্থল থেকে এসেছে। কোনো কোনো গাছপালার আকার ও রঙ অনুযায়ী তাদের নামকরণ হয়েছে।
পাইন (Pine) গাছের নামকরণ হয়েছে ল্যাটিন শব্দ পাইনাস (Pinus) থেকে, যার অর্থ হল পয়েন্ট (point) বা বিন্দু। ‘বাটার কাপ’ (butter Cup) একটি ফুল। তার আকৃতি কাপের মতো এবং রঙ মাখনের মতো। লেডিস মেন্টল ( lady’s mantle) নামকরণটি ওই সময়ে হয়েছিল, যখন মহিলারা এমন গলবন্ধনী পরত–যেগুলি ভাঁজ করা থাকত এবং তার কিনারাগুলি গাছের পাতার মতো খাঁজকাটা থাকত। হানি সাকলের ( honeysuckle) ফুলগুলি মধুপূর্ণ এবং সেইজন্য মক্ষির মধু আহরণের জন্য এই ফুলগুলি খুব প্রিয়।
ফ্রান্সের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক পিয়ারে ম্যাগনোল (Pierre Magnol)-এর নামানুসারে ‘ম্যাগনোলিয়া’ (magnolia) নামকরণ হয়েছে। সাইপ্রেস (Cypress) নামকরণের কারণ হলো গাছটি প্রথম সাইপ্রাস দ্বীপ থেকে আনা হয়েছিল। মাদাগাসকারে একটি গাছ আছে যার নাম হল ‘ট্রাভেলরস্ ট্রি’ (traveller’s tree) বা ভ্রমণকারীদের গাছ। এর পাখার মতো পাতা আছে, যাতে বৃষ্টির জল ধরে রাখে এবং ভ্রমণকারীরা এর সাহায্যে তেষ্টা মেটায়। একটি গাছের নাম সেল্ফ-হিল (self-heal) বা ‘স্বেচ্ছা নিরাময়’ কারণ লোকের ধারণা ছিল যে আঘাতের স্থানে তাকে লাগালে আঘাত সেরে যায়। অনেক গাছের নামে সাবধানবাণীও আছে। যেমন, ডেডলি নাইটশেড (deadly nightshade) একটি বিষাক্ত গাছ।
◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250