নতুন ধানে হবে নবান্ন, শিশু দিবস পালিত নভেম্বরে
শরতের মেঘ বিদায় নিয়েছে,
আকাশ এখন শান্ত নীল।
কুয়াশায় ঘেরা স্নিগ্ধ সকাল
রাতের আকাশ তারা-ঝিলমিল !!

ছোট্টো বন্ধুরা,
আশা করি ভালো আছো সবাই। প্রথমেই তোমাদের জন্য দারুণ সুখবর–ছোটোদের চাঁদের হাসি ডিজিটাল পা দিলো তৃতীয় বর্ষে। ২০২৩-এর নভেম্বরে আমরা পথ চলা শুরু করেছিলাম। তোমাদের সাহচর্য ও আমাদের অগণিত পাঠক এবং প্ৰিয় লেখকগোষ্ঠীর শুভেচ্ছায় এগিয়ে চলেছে ছোটোদের এই বাংলা অনলাইন পত্রিকা। আগামী দিনেও সবাই এভাবেই পাশে থাকবেন, এই প্রত্যাশা !!
শরতের উৎসবের প্রহর শেষ হয়ে, এখন আকাশে নরম ও সোনালি রোদের আভা। বার্তা এলো হেমন্তের। এই সময় সকালে গাছের পাতায়, ঘাসের আগায় চোখে পড়ে শিশিরবিন্দু। ক্ষেত ভরে ওঠে পাকা ধানে। কৃষকের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। গাছের শুকনো পাতারা ঝরে পড়ে। প্রকৃতিতে আসে এক শান্ত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। বাতাসে ভেসে আসে নতুন ধানের গন্ধ। হেমন্তকালেই গ্রাম-গঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় নবান্ন–কৃষকের ঘরে নতুন ফসল ওঠার আনন্দের উৎসব। দিন ছোট হয়, রাত বাড়ে। প্রকৃতি ধীরে ধীরে শীতের আগমনের বার্তা দেয়।

প্রতি বছর ১৪ই নভেম্বর পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিনে পালিত হয় শিশু দিবস। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীএবং শিশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অসীম। শিশুরা তাঁকে ভালোবেসে ‘চাচা নেহেরু’ বলে ডাকত। নেহেরু বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী ভারতের ভবিষ্যৎ। তাই তিনি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আনন্দময় জীবনের জন্য নানা পদক্ষেপ নেন। শিশু দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি শিশুরই শিক্ষা, সুগঠিত স্বাস্থ্য ও সুন্দর পরিবেশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা ও কৌতূহলকে লালন করাই প্রকৃত শিশু দিবসের উদ্দেশ্য। শিশুরা যেন নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর পৃথিবীতে বড় হতে পারে–এই হোক শিশু দিবসের অঙ্গীকার।

এবার বলবো কিংবদন্তী সুরকার ও গীতিকার সলিল চৌধুরীর কথা। তিনি ছিলেন বাংলা তথা ভারতীয় সংগীত জগতের এক অনন্য প্রতিভা, যিনি শিশুদের জন্যও অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। তোমাদের জানাই শিল্প ও সংগীতের এই প্রতিভাবান শ্রষ্টা জন্মগ্রহণ করেন ১৯শে নভেম্বর। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন গভীর মানবতা ও সমাজচেতনা দেখা যায়, তেমনি শিশুদের জন্য লেখা ও সুর করা গানগুলিতে ফুটে ওঠে সরলতা, আনন্দ ও শিক্ষা। তিনি শিশুদের উপযোগী বহু গান ও নাট্যসংগীত রচনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য–
আয় রে ছুটে আয়, তেলের শিশি, তাইরে নাইরে, এক যে ছিল মাছি, কেউ কখনো, বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে, ও সোনা ব্যাঙ, ও মাগো মা, না দির দির দা…ইত্যাদি গান। সলিল চৌধুরীর লেখা ও সুরারোপিত গানগুলি শিশুদের মনকে অনুপ্রাণিত করে–সাহস, ঐক্য ও মানবতার বার্তা দেয়। তাঁর সুরে ছিল খেলার ছলে শেখার আনন্দ। তিনি চেয়েছিলেন গান হোক শিক্ষা, চিন্তা ও আনন্দের উৎস। তাঁর সঙ্গীত আজও শিশুদের মননে জাগিয়ে রাখে দেশপ্রেম, সততা ও সুন্দর জীবনের স্বপ্ন।
ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250