ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / মে ২০২৬

তপ্ত বৈশাখে আলোর রোশনাই, শ্রদ্ধা-স্মরণে রবীন্দ্রনাথ-সত্যজিৎ

 

বৈশাখ মানে দারুণ অগ্নিবাণ,

আলোয় আলোয় মুক্তির সন্ধান।

ক্লান্ত দুপুরে বিরহী পাখির ডাক

সুরে সুরে বাঁধা পঁচিশে বৈশাখ !!

 

 

তোমরা সবাই জানো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। ১২৬৮ সালের ২৫শে বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৭ই মে) তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তাঁর সৃষ্টির ভান্ডার ছিল অফুরান। আর ছোটদের জন্য ভালোবেসে কত যে উপহার রেখে গেছেন তিনি, তার শেষ নেই। ছোটদের জন্য রবীন্দ্রনাথ রচিত কবিতা, ছড়া ও গল্প আজও বাংলা শিশু সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

 

তোমরা নিশ্চয়ই ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত বীরপুরুষ, খেলা, খোকা, প্রশ্ন, সমব্যথী, বিচিত্র সাধ, রাজার বাড়ি, মাঝি, ছুটির দিনে, লুকোচুরি, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, সাত ভাই চম্পা ইত্যাদি ছড়া পড়েছ। এরই পাশাপাশি পড়তে ভুলো না ‘শিশু ভোলানাথ’-এর কবিতাগুলি। এই বইয়ের বিখ্যাত ছড়াগুলি হলো শিশু ভোলানাথ, তালগাছ, রবিবার, মনে পড়া, পুতুল ভাঙা, খেলা-ভোলা, রাজা ও রানী, ইচ্ছামতী, দুষ্টু, অন্য মা ইত্যাদি। এছাড়া শিশুদের বাংলা ভাষা শেখার জন্য ‘সহজ পাঠ’ তাঁর একটি অনন্য সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথ শিশুদের মনের কথা খুব ভালো বুঝতেন এবং তাদের জগৎকে নিজের লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর অনুভবী কলমে। তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম এশীয় ও প্রথম ভারতীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ।

 

 

এই মে মাসেই জন্মগ্রহণ করেন আর এক বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি। আমাদের সবার প্রিয় সত্যজিৎ রায়। ১৯২১ সালের ২রা মে কলকাতার বিশপ লেফ্রয় রোডে তাঁর জন্ম হয়। তিনি ছিলেন একাধারে চিত্র পরিচালক, লেখক, সঙ্গীত পরিচালক ও অঙ্কনশিল্পী। ছোটদের উনিও বেজায় ভালোবাসতেন। তোমরা নিশ্চয়ই তাঁর লেখা গল্প পড়েছ। সত্যজিৎ রায়ের ছোটদের গল্প বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ–যা রোমাঞ্চ, বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি, ভূতের গল্প ও গোয়েন্দা কাহিনিতে ভরপুর। 'ফেলুদা', 'প্রফেসর শঙ্কু' এবং 'তারিণীখুড়ো' তাঁর সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র। সহজ ভাষা, চমৎকার বর্ণনা এবং সিনেমাটিক দৃশ্যকল্পের জন্য তাঁর গল্পগুলো শুধু শিশু-কিশোর নয়, সব বয়সের পাঠকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত কিছু ছোটগল্প ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’,  ‘টেরোড্যাকটিলের ডিম’, ‘অনাথবাবুর ভয়’, ‘সুজন হরবোলা’ ইত্যাদি! আর আছে ফেলুদা সিরিজের অজস্র কাহিনি, প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি এবং তারিণীখুড়োর গল্প। সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলো ছোটদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং একই সাথে তাদের কৌতুহল জাগিয়ে তোলে। ১৯৯২ সালে সিনেমায় তাঁর সারাজীবনের কাজের অবদান ও কৃতিত্বের জন্য সত্যজিৎ রায় সাম্মানিক একাডেমি পুরস্কার (অস্কার) পান।

 

 

বাংলায় গ্রীষ্মকাল (বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস) বছরের প্রথম ও উষ্ণতম ঋতু, যা এপ্রিল থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ে আবহাওয়ায় থাকে তীব্র দাবদাহ ও দীর্ঘ খরা। প্রচণ্ড গরমে জীবজন্তু, পশুপাখি সবাই খুব কষ্ট পায়। মাঠ-ঘাট, নদী-নালা শুকিয়ে যায়। বিকেলে বা সন্ধ্যায় হঠাৎ ধূলিঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি অর্থাৎ কালবৈশাখী হয়ে থাকে, যা কিছুটা স্বস্তি আনে। কষ্টকর আবহাওয়ার মধ্যেও প্রকৃতি পুরোপুরি বিমুখ করে না। আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ, আমড়া, জামরুল ইত্যাদি ফল পাওয়া যায় এই সময়। বিশেষত ফলের রাজা আম তো তোমাদের সবারই প্রিয়। গ্রীষ্মের ফুলগুলি হলো কৃষ্ণচূড়া, জারুল, বেলি, জুঁই, টগর, গোলাপ ইত্যাদি। এই গরমেও সুস্থ থাকতে হবে তোমাদের। তাই নিজেদের খেয়াল রেখো। ভালো থেকো।

 

◾ ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up