ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / মার্চ ২০২৬

এলো বসন্ত ঝরাপাতার গানে

চৈত্রমাসে ঝরাপাতারা বিদায়ের গান গায়

ঈশানকোণে রক্তাভ মেঘ উঁকি দিয়ে চলে যায়।

ঋতুদের এই আনাগোনা পালা সময়ের অবদান

প্রকৃতির এই খেলাঘরটিতে সবটাই বিজ্ঞান।

 

 

ছোট্টো বন্ধুরা,

 

কেমন আছো তোমরা ? সবাই খুব আনন্দ করে রঙ খেলেছ নিশ্চয়ই। এ বছর মার্চ মাসের শুরুতেই হয়ে গেল দোল উৎসব। বসন্তের অন্যতম প্রধান এই উৎসব পালিত হলো সারা দেশ জুড়ে। নির্মল আনন্দ আর খুশির এই উৎসবের হাত ধরেই এসে গেল বাংলা বছরের শেষ ঋতু বসন্ত। ফাল্গুন ও চৈত্র দুই মাস মিলে বসন্ত। 

 

 

বাংলা বছরের শেষ মাস হলো চৈত্র, আর চৈত্রের শেষ দিন এবং বাংলা বছরেরও অন্তিম দিনে উদযাপিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি। তোমাদের জানাই, এই দিনটিতে পালিত হয় বাঙালির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসব। এই উৎসবে শিবের গাজন, চড়ক পূজা, স্নান, দান ইত্যাদি নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। ঝরাপাতার গান আর মন্দমধুর বাতাসে শোনা যায় বর্ষ বিদায়ের সুর। 

 

 

তোমাদের প্রথমেই জানাই, আজকের দিনটির বিশেষ গুরুত্ব–আজ বিশ্ব নারী দিবস। প্রতি বছর ৮ই মার্চ দিনটি নারীর অধিকার, সম্মান ও সমতার দাবিকে স্মরণে রেখে পালিত হয়। সমাজ, পরিবার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে নারীরা আজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ও মর্যাদার দাবিদার। 

 

 

মার্চ মাসের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ২২শে মার্চ। এই দিনটি পালিত হয় বিশ্ব জলদিবস হিসেবে । আমাদের জীবনে জলের গুরুত্বকে তুলে ধরার জন্যই জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালে ২২ মার্চ তারিখকে বিশ্ব জল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে প্রথম বিশ্ব জল দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। ১৯৯৩ সালে প্রথম বিশ্ব জল দিবস পালিত হয় এবং তার পর থেকে এই দিবস পালনের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ছোট্টো বন্ধুরা, তোমরাও নিশ্চয়ই জলের গুরুত্ব জানো। তাই সকলকেই জল সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার প্রতীক এই দিনটিকে সার্থক করে তুলতে হবে। 

 

 

তোমাদের সবারই খুব প্রিয় রামায়ণ ও মহাভারত। এই সূত্রেই জানাই মার্চ মাসেই জন্মগ্রহণ করেন বাংলার বিখ্যাত সাহিত্যিক রাজশেখর বসু, যিনি অনুবাদ করেছেন বাল্মীকি রামায়ণ (সারানুবাদ) ও কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসকৃত মহাভারত (সারানুবাদ)। আগামী ১৬ই মার্চ তাঁর জন্মদিন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক, অনুবাদক ও রসায়নবিদ। তবে, ‘চলন্তিকা’ শিরোনামে বাংলা অভিধান রচনার জন্য তাঁর সর্বাধিক পরিচিতি। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়  ‘চলন্তিকা’। রাজশেখর বসু ‘পরশুরাম’ ছদ্মনামে তাঁর ব্যঙ্গকৌতুক ও বিদ্রুপাত্মক রচনাগুলি লিখেছেন। রামায়ণ, মহাভারত ছাড়াও তিনি অনুবাদ করেছেন কালিদাসের মেঘদূত কাব্য । সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রবীন্দ্র পুরস্কারে ও ভারত সরকার পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

 

 

◾ ছবি ঋণ ইন্টারনেট 


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up