বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন এবং বঙ্কিম ও নজরুল স্মরণ
গ্রীষ্মের খরতাপে প্রাণ আনচান
গাছপালা পশুপাখি সব হয়রান।
সকলেই বসে আছে আশায় আশায়
ওই বুঝি বৃষ্টির গান শোনা যায় !!
ছোট্ট বন্ধুরা,
তোমরা নিশ্চয়ই জানো পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জীবনে ! আমাদের চারপাশে রয়েছে আকাশ, মাটি, জল, বায়ু, আলো এবং আরও নানা বস্তু। এই সব উপাদানই আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়। এরা মিলেই সৃষ্টি করে পরিবেশ। এহেন পরিবেশ যদি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর না থাকে, তাহলে আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকাই মুশকিল। এই প্রসঙ্গে তোমাদের জানাই কীভাবে শুরু হলো 'বিশ্ব পরিবেশ দিবস' পালন !
সুইডেন সরকার ১৯৬৮ সালের ২০শে মে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠিতে ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের কথা। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে সম্মেলনের প্রথম দিন ৫ জুনকে জাতিসংঘ 'বিশ্ব পরিবেশ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর ৫ই জুন দিবসটি 'বিশ্ব পরিবেশ দিবস' হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।

তোমরা সকলেই কাজী নজরুল ইসলামের নাম জানো। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, ছড়াকার, সাহিত্যিক ও সঙ্গীতজ্ঞ। নজরুল ইসলামের জন্ম ২৪শে মে, ১৮৯৯ সালে। মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে তাঁর সৃষ্টির প্রাচুর্য ছিল তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও নজরুল ইসলামের প্রধান পরিচয় তিনি কবি। নজরুল তাঁর জীবন শুরু করেন অতি সাধারণ পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এবং তাঁর মধ্যে বিকশিত হয়েছিল একটি বিদ্রোহী মন।
১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তাকে রাজদ্রোহিতার অপরাধে কারাবন্দী করেছিল। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন অবিভক্ত ভারতের বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। নজরুল ৪,০০০ গানের কথা ও সুরস্রষ্টা। এছাড়াও তিনটি উপন্যাস, উনিশটি ছোটগল্প এবং পাঁচটি প্রবন্ধের বই রচনা করেছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালে মারাত্মকভাবে স্নায়বিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন নজরুল। মৃত্যু অবধি সুদীর্ঘ ৩৪ বছর তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। ১৯৭২ সালে তাঁকে সপরিবারে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে সম্মানসূচক ডি. লিট. ডিগ্রিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।

‘বন্দে মাতরম’ গানের কথা তো তোমরা সকলেই জানো। জেনে রাখো, সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা, যা ১৮৮২ সালে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হয়েছিল। আজ তোমাদের তাঁর কথা বলব। ১৮৩৮ সালের ২৬শে জুন জন্মগ্রহণ করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তার অসীম অবদানের জন্যে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন বাংলা উপন্যাসের জনক।
মূলত বড়দের জন্য সাহিত্য রচনা করলেও, ছোটদের জন্যও কিছু সহজপাঠ্য ও শিক্ষামূলক রচনা লিখেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্রের ’ছোটো পড়াই’ তেমনই একটি বই। বইটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ছোটদের সহজ ভাষায় বাংলা পড়া শেখানো এবং নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। বইটিতে ছোট ছোট গদ্যাংশ, উপদেশমূলক কথা, সহজ ভাষার ব্যবহার এবং শিক্ষামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ঊনবিংশ শতকে শিশুদের জন্য উপযুক্ত বাংলা বই খুব কম ছিল। সেই সময়ে বঙ্কিমচন্দ্র ছোটদের শিক্ষার কথা ভেবে এই ধরনের রচনা করেন। এর মাধ্যমে শিশুরা যেমন ভাষা শিখত, তেমনি ভালো আচরণ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও ধারণা পেত। বঙ্কিমচন্দ্র মনে করতেন, ছোটদের শিক্ষার ভিত্তি হওয়া উচিত–সহজ ভাষা, আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম, যুক্তিবোধের বিকাশ। তাঁর লেখায় তাই শুধু পড়াশোনা নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষাও ছিল। ১৮৯৪ সালের ৮ই এপ্রিল বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনাবসান হয়।
ভালো থেকো সবাই।
◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250