ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / জুলাই ২০২৬

বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, ঋতু বর্ষার আবাহন ও বন্ধুত্বের অঙ্গীকার

আসছে শ্রাবণ ঝমঝমিয়ে নামবে এবার বৃষ্টি

খরা নাকি বন্যা হবে বলতে পারে সৃষ্টি !!

চলছে পথিক মাথায় নিয়ে রঙিন ছাতা

বর্ষারাতেই উঠবে জমে গল্প-গাথা !!

 

 

বাংলার ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা অন্যতম প্রধান ঋতু। আষাঢ়-শ্রাবণ–এই দুই মাস নিয়ে বর্ষাকাল। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শুকিয়ে যাওয়া প্রকৃতিতে প্রাণ ফেরাতে বর্ষার আগমন ঘটে। নববর্ষার আগমনে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং তারপরই একটানা বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি তখন নতুন রূপ ধারণ করে। চারপাশের গাছপালা সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে। খাল, বিল, নদীনালা বৃষ্টির জলে ভরে যায়। বর্ষার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো কদম ফুল। এ ছাড়া কেয়া, জুঁই ও কামিনী ফুলের সুবাসে চারপাশ মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। তোমাদের জেনে রাখা দরকার, কৃষিপ্রধান রাজ্য এই বাংলায় বৃষ্টিপাত কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধান ও পাট চাষের জন্য এই সময় প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়, যা বর্ষা পূরণ করে। তাই বর্ষার শুরুতেই বাংলার কৃষকেরা মাঠে ধান বোনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

 

 

তবে, বর্ষাকাল যেমন প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ, তেমনই কখনো কখনো এই ঋতু কষ্টের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে অনেক সময় বন্যা হয়। গ্রামের মাটির রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত ও পিছল হয়ে পড়ে। যার ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। বন্যার কারণে অনেক সময় ফসলহানি ঘটে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাবও ঘটে। অতএব বর্ষায় খিচুড়ি আর পাপড় ভাজা খাওয়ার মজার পাশাপাশি মশার কামড় ও জলবাহিত রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাবধানী হতেই হবে।

 

 

ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ এবং আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা, অদম্য কর্মশক্তি এবং জনসেবামূলক অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৮৮২ সালের ১লা জুলাই পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন ডঃ বিধান চন্দ্র রায়। ছোটবেলা থেকেই সেবা ও ত্যাগের আদর্শে বেড়ে ওঠেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুনর্গঠনে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন বিধান রায়। চিকিৎসা পেশার ক্ষেত্রেও এক অনন্য নজির স্থাপন করেন তিনি। জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধি নির্ণয়ে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। তিনি মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরুর মতো শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে তিনি ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশভাগের পর ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন এবং রাজ্যের সংকটময় মুহূর্তে তিনি ত্রাতার ভূমিকা পালন করেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১৪ বছরের কার্যকাল ছিল বাংলার উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। একদিকে একাধিক শহর, অন্যদিকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে ওঠে বিধান রায়ের উদ্যোগে। চিকিৎসা ও জনসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার ১৯৬১ সালে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করে। তাঁর জন্মদিন এবং প্রয়াণ দিবস, অর্থাৎ ১লা জুলাই দিনটিকে ভারতে জাতীয় ডাক্তার দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

 

 

মানুষের জীবনে সুন্দর সম্পর্কগুলির অন্যতম হলো বন্ধুত্ব। এই সম্পর্ক এক মানুষকে আরেকজনের সঙ্গে মনের বন্ধনে আবদ্ধ করে। সমমনা লোকেরাই সফলভাবে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারেন। স্বার্থহীন এই সম্পর্ক আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাই তারিখটিকে বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তোমাদের সবারই নিশ্চয়ই এমন বন্ধু আছে, যারা তোমাদের সমস্ত প্রয়োজনে পাশে থাকে। জীবনে বন্ধুর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা আমাদের বিভিন্ন কাজে পাশে থাকে, উৎসাহিত করে। তারা যেমন সুখের মুহূর্তে থাকে, তেমনই দুঃখের দিনেও সাথী হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস তাই এই সম্পর্ক উদযাপনের প্রতীক হিসাবে প্রত্যেকের জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভালো থেকো তোমরা। বন্ধুত্বের হাত বাড়াও।

 

◾ ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up