ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / জানুয়ারি ২০২৬

ভালো থেকো সবাই নতুন বছরে

 

এসে গেল ইংরেজি নতুন বছর

নতুন ভাবনা নিয়ে শুরু হোক সোনালি সফর!

এসময় ছকে নাও নতুন স্বপ্নের ছবি গড়া

যা কিছু আগের বছর হয়ে ছিল অজানা অধরা !!

 

ছোট্টো বন্ধুরা, 

 

প্রথমেই তোমাদের জানাই নতুন ইংরেজি বছরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন !! ২০২৬ তোমাদের জীবনে নিয়ে আসুক নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও লক্ষ্য। আন্তরিক শুভকামনা জানাই আমাদের সকল প্রিয় পাঠক ও লেখককে। পুরনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট, ব্যর্থতা ও হতাশা পিছনে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে হবে আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে। সারা বিশ্বের মানুষ এই সময়টায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রে সময় কাটান। থাকে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখ এবং ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন। অনেকেই নতুন বছরের শুরুতে নিজেদের জীবনে ভালো পরিবর্তনের সংকল্প নেন। তোমাদের সংকল্পে থাক, সবাইকে ভালোবাসার অঙ্গীকার। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ব বিখ্যাত দুই বাঙালি–স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি) ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭ সালের ২৩শে জানুয়ারি)।

 

 

আজ তোমাদের জানাবো ওঁদের দুজনেরই শৈশবের কথা। প্রথমে স্বামী বিবেকানন্দ। প্রতিভাবান এই মানুষটির আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁর শৈশব ছিল প্রাণবন্ত, কৌতূহলী। জন্ম কলকাতার সিমলাপল্লিতে। ছোটবেলা থেকেই নরেন্দ্রনাথ ছিলেন সাহসী, সত্যবাদী ও কৌতূহলী। যে কোনো বিষয় তিনি যুক্তি ও যুক্তিবোধ দিয়ে বুঝতে চাইতেন। বাবা বিশ্বনাথ দত্ত ছিলেন একজন শিক্ষিত আইনজীবী, যিনি তাঁকে যুক্তিবাদী ও আধুনিক চিন্তাধারায় গড়ে উঠতে সাহায্য করেন। অন্যদিকে মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী ছিলেন গভীর ধর্মপরায়ণ, যার প্রভাব নরেন্দ্রনাথের মনে আধ্যাত্মিকতার বীজ রোপণ করে। রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের গল্প শুনে বড় হন তিনি।নরেন্দ্রনাথ পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও শরীরচর্চায়ও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তবে ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে ঈশ্বর, জীবন ও সত্য সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন জাগ্রত হতো। এই অনুসন্ধিৎসু ও দৃঢ়চেতা শৈশবই ভবিষ্যতে তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

 

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় বিপ্লবী নেতা। ওড়িশার কটকে তাঁর জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। আই.সি.এস. পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েও তিনি সেই উচ্চপদ ত্যাগ করেন। শুরুতে মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার আদর্শে অনুপ্রাণিত হলেও পরবর্তীকালে তিনি স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন এবং ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’–এই বজ্রকণ্ঠের আহ্বানে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ সরকার গঠিত হয় এবং ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। নেতাজির জীবন ছিল আত্মত্যাগ, সাহস ও অদম্য দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগ আজও জাতির কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উৎস।

 

 

২৬শে জানুয়ারি ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন–এই দিনটি প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৫০ সালের এই দিনেই ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় এবং দেশ পূর্ণ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে প্রণীত এই সংবিধান ভারতীয় নাগরিকদের সমতা, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের অধিকার নিশ্চিত করে। প্রজাতন্ত্র দিবসে সারা দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নয়াদিল্লির রাজপথে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য প্যারেডে ভারতের সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। এই দিনটি আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট 

 


পাঠকদের মন্তব্য

তনুজা চক্রবর্তী লিখেছেন... ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬
সুখপাঠ্য, ভারি চমৎকার করে দুজন বিশ্ববিখ্যাত বাঙালির জন্ম দিবসের মধ্যে দিয়ে তাঁদের পরিচয় তুলে ধরলেন। আর নতুন বছরে আশা জাগানো একটি লেখা ।
তনুজা চক্রবর্তী লিখেছেন... ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬
সুখপাঠ্য। বিশ্ববিখ্যাত বাঙালিদের জন্মদিবসের সঙ্গে সল্প পরিসরে পরিচয়ও করিয়ে দিলেন চমৎকার ভাবে। নতুন বছরে আশা জাগানো একটি লেখা। আপনিও খুব ভালো থাকুন।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up