ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / এপ্রিল ২০২৬

ওই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে

এসে গেল বাংলার নতুন বছর

নতুন ভরসা আর আশার সফর।

ভালো থাক গাছপালা, পশুপাখি সব

নতুনের আগমনে হোক উৎসব !!

 

 

ছোট্টো বন্ধুরা,

 

প্রকৃতির সঙ্গে একটু একটু করে পরিচয় ঘটছে তোমাদের। এই সময়টা যে পুরোপুরি বৈশাখী ঝড়ের কবলে চলে যায়, সেটা তোমরা সকলেই জানো। সারাদিন তপ্ত আর গুমোট আবহাওয়া, সন্ধে হলেই আকাশ ঢেকে ফেলে কালো-ধূসর মেঘের দল। তারপরই ঝড়ো হাওয়ার দাপটে উথালপাথাল বাংলার প্রকৃতি। এই প্রেক্ষিতে তোমাদের জানাই এই ঝড়ের সম্পর্কে কিছু তথ্য। কালবৈশাখী হলো গ্রীষ্মকাল, মূলত বাংলার চৈত্র-বৈশাখ ও ইংরেজির মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ ও নিকটবর্তী অঞ্চলে বিকেলে বা সন্ধ্যায় উৎপন্ন হওয়া আকস্মিক ও শক্তিশালী বজ্রঝড়। এটি সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসে এবং তীব্র বাতাসের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। কালবৈশাখীর সাধারণ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিমি, তবে কখনো ১০০ কিমি/ঘণ্টার বেশি হতে পারে। এই ঝড় প্রচণ্ড ধ্বংসাত্মক হলেও, চৈত্র-বৈশাখের খরা থেকে স্বস্তি দেয় এবং ধান, পাট ও চা চাষের জন্য বিশেষ উপকারী।

 

 

ঝড়ের পরই তোমাদের বলব সেই মানুষটির কথা, যিনি এই এপ্রিল মাসেই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র। তবে, চার্লি চ্যাপলিন নামেই তিনি অধিক পরিচিত। চ্যাপলিন ছিলেন একজন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও সুরকার।  চ্যাপলিনের জন্ম ১৮৮৯ সালের ১৬ই এপ্রিল, মৃত্যু ১৯৭৭-এর ২৫শে ডিসেম্বর। হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের শুরুর সময় থেকে মধ্যকাল পর্যন্ত তিনি তার অভিনয় ও পরিচালনা দিয়ে সাফল্যের শিখরে আরোহণ করেন। চ্যাপলিনকে বড় পর্দার শ্রেষ্ঠতম মূকাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতাদের একজন বলেও বিবেচনা করা হয়। তাঁর শৈশব ছিল অত্যন্ত কষ্টের। দারিদ্র ও পারিবারিক সমস্যার কারণে ছোটবেলায় তাঁকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা দিয়ে সবার নজর কেড়ে নেন। পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং তাঁর বিখ্যাত ছবি The Tramp-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সারা বিশ্বের চলচ্চিত্র জগতে চ্যাপলিনের প্রভাব ও অবদান অনস্বীকার্য।

 

 

সবশেষে বাঙালির অতি প্রিয় পয়লা বৈশাখ। প্রথম বাংলা মাস বৈশাখের ১ তারিখ–বঙ্গাব্দের প্রথম দিন তথা বাংলা নববর্ষ নিয়ে আমাদের উৎসাহের শেষ নেই। বাংলার চিরন্তন উৎসব চৈত্র সংক্রান্তির পরদিনই আসে পয়লা বৈশাখ। এই দিনটি বাঙালিদের বর্ষবরণের দিন। পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে নববর্ষ সাড়ম্বরে পালিত হয়। পাশাপাশি ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন। এছাড়াও সারা বিশ্বে, যেখানে যত বাংলাভাষী মানুষ আছেন, এই দিনটি তাঁরাও উদযাপন করেন মহানন্দে। উদযাপনে মেলা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি ছাড়াও থাকে হালখাতা। এই দিন গণেশ পুজোর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন হিসেবের খাতা খোলেন। তার থেকেই হালখাতার প্রচলন।

 

 

◾ ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up