ছোটোদের চাঁদের হাসি / গল্পগাথা / জুন ২০২৬

কথা বলো মা

“হ্যালো, হ্যালো!”

ফোনের ওপারে টিনটিন, পুপুর বেস্ট ফ্রেন্ড।

সে জবাবে বলে–”হ্যাঁ, বল পুপু। কিন্তু অমন আস্তে কথা বলছিস কেন ? কিছুই তো শোনা যাচ্ছে না।”

পুপু গলা নামিয়েই বলে–”আরে, কি করবো ? মা শুনতে পেলে…! এমনিতেই পুরো ফায়ার হয়ে আছে।”

টিনটিন মনে মনে ভাবে, সত্যি সুমনা আন্টি বড্ড রাগী। মুখে বলে, “আবার কী হলো ?”

“আজ কমলা মাসি কাজ করতে আসেনি। ওর ছেলের অসুখ করেছে। তাই বাবা, মাকে হেল্প করার জন্য বাসন মাজতে গিয়েছিল। তাতেই বিপত্তি। মায়ের সবচেয়ে পছন্দের ডিনার সেটের একটা প্লেট ভেঙেছে। সেটটা মায়ের বন্ধু শিল্পী আন্টির দেওয়া গিফট।”

 

ভিতর থেকে মায়ের তীক্ষ্ণ চিৎকার ভেসে আসে–”কে রে পুপু? কার সঙ্গে কথা বলছিস ? লেখাপড়া নেই ! সারাক্ষণ ফোন কানে…!” “পড়া নিয়েই কথা বলছি মা, টিনটিনের সঙ্গে! সেদিন জ্বরের জন্য স্কুল কামাই হলো না ? টিনটিনের কাছে হোমওয়ার্ক কিছু আছে কিনা জানতে চাইছিলাম।”–মায়ের কথার জবাবে বলে পুপু। তারপর গলা নামিয়ে টিনটিনকে–“এখন রাখি রে ! মায়ের আবার শুরু হয়ে গেছে। বিকেলে ছাদে আসিস। তখন কথা বলব।” বলেই ফোন রেখে, জানালা থেকে সরে, পড়ার টেবিলে বসে পুপু। বলা যায় না, মা এখনই ইন্সপেকশনে আসতে পারে।

 

একটু আগে অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছে পুপুর বাবা সুজিত। পূপু ভয়ে ভয়ে বাবার কাছ ঘেঁষে আসতেই বাবা গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করে, “কী রে ? খবর কী ? আবহাওয়া কেমন ? গরম এখনও?” জবাবে পুপু কিছু বলার আগেই কিচেন থেকে মায়ের গম্ভীর গলা ভেসে আসে, “পুপু, বাবাকে বল, আগে ফ্রেশ হতে। খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।” বাবা আর কিছু না বলে করুণ মুখে ঘরের ভিতরে চলে যায়। পুপু মনে মনে ভাবে, মা কী করে যে সব টের পেয়ে যায় !!

 

এ বাড়িতে তিনজন প্রাণী পুপু আর তার বাবা-মা। বলা বাহুল্য, বাড়ির নিয়মকানুন পুরোপুরি মা-ই ঠিক করে। সেই নিয়মেই ঘড়ি ধরে ঠিক রাত ন’টায় ডিনার টেবিলে হাজির পুপু আর বাবা। মা টেবিল সাজাচ্ছে। চোখের কোণ দিয়ে মায়ের মুখ দেখে মেজাজ বোঝার চেষ্টা করে সে। নাহ, ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। পুপু ভাবে, আজ রিস্ক না নেওয়াই ভালো। চুপচাপ খেয়ে উঠে যেতে হবে। এদিকে বাবা প্রতি রাতে যা করে, মায়ের সাজানো বাটির ঢাকনা তুলে তুলে দেখে কী কী রান্না হয়েছে, আজও তাই করতে গিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থেমে যায়।

 

কয়েকদিন পরের এক রবিবার। বাবার অফিস, পুপুর স্কুল ছুটি। মা কিচেনে কমলা মাসিকে নিয়ে রবিবারের স্পেশাল জলখাবার লুচি আর সাদা আলুর তরকারি বানাতে ব্যস্ত। পুপু বুঝতে পারে, মায়ের মুড আজ বেশ ভালো। বাবা ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে পেপার পড়তে পড়তে নাক টেনে বলে, “আহা, কেমন গন্ধ বেরিয়েছে লুচি ভাজার। দেখিস পুপু মাকে আবার চটিয়ে দিস না।”

“বা রে, আমি বুঝি শুধু মাকে চটাই ! তুমিও তো…!”

ঠিক তখনই ফোন বেজে ওঠে।

“ফোনটা ধর তো পুপু”–বাবার কথায় পুপু ফোনস্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে যেতেই মায়ের গলা শুনতে পায়–”হ্যাঁ, ফোন ধর। ওই কর। লেখাপড়া চুলোয় যাক।”

লুচির পাত্র হাতে মা, পিছনে কমলা মাসি।

“আজ তো রবিবার মা। কাল সন্ধ্যায়ও তো কতক্ষণ পড়লাম! তোমার শুধু... !” কাঁদো কাঁদো গলায় বলে পুপু।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাবাই তাড়াতাড়ি গিয়ে ফোন ধরে। তারপর মাকে বলে, “তোমার মায়ের ফোন!” কথাটা শুনেই মায়ের মুখটা কেমন আলো আলো হয়ে যায়। হতেই হবে। দিদুন মানুষটাই এমন। তার নাম শুনলেই সবাই শান্ত হয়ে যায়।

 

ফোন ছেড়ে ফিরে আসে সুমনা। প্লেটে খাবার তুলে দিতে দিতে বলে,”মা আগামী মাসে কলকাতায় আসছে।” পুপু লাফিয়ে উঠে বলে, “কী মজা!” সুজিত নিঃশ্বাস ফেলে বলে,”যাক !!!”

“হ্যাঁ, তোমাদের তো মজা হবেই ! মা এলেই তো সব রুটিন ওলোটপালট। নিয়ম-শৃঙ্খলাও চুলোয় যাবে।” যথারীতি মায়ের এই কথার জবাবে বাবার প্রতিক্রিয়া মেলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই–”কী একটা প্লেট ভেঙেছে–যেন বিশ্ব তোলপাড়!”

সুমনার যুক্তি “কী একটা নয়। ওটা শিল্পীর দেওয়া।”

“তাতে কী, কাজ করতে গিয়ে অমন সবারই হয়। তুমি যে সেদিন ইস্ত্রি করতে গিয়ে আমার স্কাই-ব্লু শার্টটা জ্বালিয়ে ফুটো করে দিলে, আমি কিছু বলেছি ? ওটা তো আমার মায়ের দেওয়া। মায়ের শেষ চিন্হ।” জবাবে তৎপর সুজিত।

সুমনাও সামাল দেয়–”ওটা যথেষ্ট পুরোনো হয়ে গেছিল।”

সুজিত–”প্লেটটাও পুরোনো।”

এবার পুপু বলে ওঠে “উঃ, থামবে তোমরা ? আমার বড্ড খিদে পেয়েছে !”

মনে মনে ভাবে, দিদুন এলে শান্তি। মা যত রাগীই হোক, দিদুনকে খুব মানে। দিদুনের কাছেই সে শুনেছে, মা তার বাবা অর্থাৎ দাদুর মতো হয়েছে। দাদুও খুব কড়াধাতের মানুষ ছিল। দাদুকে সে কাছে পায়নি। তার জন্মের আগেই দাদু মারা যায়। এখন দেওঘরে তার মামাবাড়িতে দুই মামা, দুই মামী, তার দুটি ছোট ভাই-বোন ও দিদুন থাকে। দিদুনের মতোই ওই বাড়িটাও সবসময় খুশির হাসি হাসে।

 

কয়েকদিন পরের এক বিকেল। পুপু একটু আগেই স্কুল থেকে ফিরে, ফ্রেশ হয়ে, খাবার খেয়ে, তার ঘরের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। একটু পরেই তপতী আন্টি আসবে পড়াতে। মা আপাতত বেডরুমে ব্যস্ত। কলিং বেল বাজে। পুপু তাড়াতাড়ি গিয়ে আই-হোলে চোখ রাখে। আন্টি এসে গেছে। সে দরজা খুলে দেয়।

 

“আন্টি, আজ বড্ড তাড়াতাড়ি এলে যে !” পুপুর কথার জবাবে তপতী কিছু বলার আগেই পিছন থেকে মা বলে ওঠে, “তাতে তোমার কী অসুবিধা শুনি ? কোন রাজকার্য করছ ?”

পুপু বলতে পারে না, সে সবে স্কুল থেকে ফিরেছে। চুপচাপ গোমড়া মুখে নিজের ঘরে গিয়ে পড়ার টেবিলে বসে।

সুমনা তপতীকে বলে, “বসো, চা খেয়ে একেবারে ওঘরে যাবে।”

তপতী সোফায় বসে। কমলা দুজনের জন্য চা নিয়ে আসে। চায়ের কাপ হাতে তুলে নিয়ে তপতী সুমনাকে বলে, “মুখটা অত ফোলা লাগছে কেন বৌদি? ব্লাড প্রেসার বেড়েছে মনে হয় আবার !”

“আর বলো কেন, মেয়েটা একেবারে লেখাপড়ায় মন দিচ্ছে না। সারাক্ষণ ফোন আর আড্ডা ! এদিকে লাস্ট উইকলি এক্সামে পার্সেন্টেজ অনেক কমে গেছে। আর একবছর পরেই তো মাধ্যমিক !”

“এই সময়টায় এমন হয় বৌদি। উইকলি টেস্টের সামান্য নাম্বারের ফারাক নিয়ে অত ভাববেন না। ও এমনিতে তো মেধাবী। ফাইনালে খুব ভালো করবে দেখবেন !”

“হলেই ভালো !” সুমনার গলায় আস্থার অভাব স্পষ্ট। তপতী আর কিছু না বলে, চা খেয়ে পুপুর ঘরে চলে যায়।

 

তাদের পাশাপাশি বাড়ি। তাই এ-ছাদ ও-ছাদ থেকে কথা বলে পুপু আর টিনটিন।

“নেটফ্লিক্স-এর নতুন অ্যানিমেশন সিরিজটা দারুণ রে। তুই দেখেছিস ?”–জিজ্ঞেস করে টিনটিন।

পুপু বলে, “পাগল ? আমার ফোনে নেটফ্লিক্স নেই। মায়ের ওসব পছন্দ নয়।”

“এ বাবা। ওটা দারুণ। তাছাড়া ওটা তো ছোটদের দেখার জন্যই !”

“সেটা আর মাকে কে বোঝায় বল ? এই ছাদে আসা, ফোনে কথা বলা, এইসব নিয়েই বলে সারাক্ষণ কি ঝামেলা ! মায়ের শুধু পড়া আর পড়া!”

এরইমধ্যে নিচে কিছু একটা পড়ার শব্দ হয় জোরে। পুপু ছুটে যায়। টিনটিনও নিজেদের ছাদ থেকে দৌড়ে পুপুদের বাড়িতে আসে। মা পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। একইসঙ্গে বাবা আর বাবার বন্ধু ডাক্তার অমিত আঙ্কেলকে ফোন করে পুপু। তার খুব ভয় করে। ইতিমধ্যে টিনটিনের মা শোভা আন্টি এসে গেছে। কমলাকে নিয়ে সুমনার প্রাথমিক পরিচর্যায় লেগে পড়ে শোভা। কিছু পরে ডাক্তার আঙ্কেলও আসেন। অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মাকে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরের কয়েক ঘন্টা...নাহ, কয়েক দিন একটা যুদ্ধ চলে।

 

আজ প্রায় দিন সাতেক পর বাড়ি ফিরেছে সুমনা। এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। “সাবধানে। সিস্টার আপনি একটু খেয়াল রাখুন। আমি গাড়িটা ছেড়ে আসি”–বলে সুজিত।

জবাবে সিস্টার “ঠিক আছে। পুপু, তোমার মায়ের জামাকাপড় কোথায় থাকে, একটু দেখিয়ে দেবে ?”

“এই তো এই দেওয়াল আলমারিতেই মায়ের সব থাকে।”

সুজিত ফিরে আসে। ঘরের জানালা খুলে দেয়, বলে–”পুপু তুই স্নান করে নে। খাবার অর্ডার করেছি আমাদের তিনজনের। আর তোর মায়েরটা শোভা আন্টি দেবে।”

বলতে বলতেই টিফিন কেরিয়ার হাতে শোভা আসে। পুপুকে নিয়ে কিচেনে যায়। তারপর, সিস্টারকে বলে “একবার দেখে নিন সব ঠিক আছে কিনা।”

কেরিয়ার খুলে সব দেখে সিস্টার জানান,”হ্যাঁ। ঠিকই আছে।”

দাদা, আপনারাও স্নান খাওয়া করে একটু বিশ্রাম করুন। যা গেল ক'টা দিন। আমি বিকেলের দিকে আবার আসবো। তখন টিনটিনও আসবে রে পুপু”, বলে চলে যায় শোভা।

 

প্রায় একমাস কেটেছে। সুমনা আগের থেকে ভালো। তবে, কথা এখনও বলছে না। ডাক্তার আসেন চেকআপ করতে।

“এই তো বেশ ভালোই আছেন দেখছি।”–বলে ডাক্তার।

সুজিত বলে, “সবই তো ভালো ডাক্তারবাবু। কিন্তু কথা তো বলছে না !”

ডাক্তার বলে, “দেখুন, একটু সময় তো লাগবে। অ্যাটাকটা তো কম ছিল না ! আমি ভালো করে দেখেছি। ইন্টারনাল কোনও সমস্যা নেই। এটা মনে হচ্ছে কিছুটা ট্রমা এফেক্ট। আপনারা ওঁর সঙ্গে কথা বলবেন। আর বাড়িতে যেন একটা হাসিখুশি পরিবেশ থাকে।”

 

পরের দিন বিকেল। পুপু আজকাল ঘরেই থাকে, স্কুলে যাওয়ার সময়টুকু বাদ দিয়ে। গতকাল দিদুন এসেছে খবর পেয়ে। মামারাও এসেছিল। মাকে একটু ভালো দেখে চলে গেছে। দিদুন আসার পর, মাও একটু ভালো হয়ে গেছে দেখে সিস্টারও আপাতত চলে গেছেন। বিকেল হয়েছে। কমলা মাসি মুসুম্বির রস বানিয়ে দিয়েছে, দিদুন মাকে খাইয়ে দিচ্ছে সেটা। পুপুর কিছু ভালো লাগে না। মা কথা বলছে না। বাড়িটা কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে।

একটু পরে টিনটিন আসে–তার হাতে রাজ্যের খাতাবই!

পুপু টিনটিনকে নিয়ে নিজের ঘরে যায়। যে ক’দিন স্কুল কামাই হয়েছে, এগুলো সেসব দিনের পড়া। দেখে নিতে হবে। রেজাল্ট ভালো করতেই হবে তাকে।

পড়াশোনার মাঝেই টিনটিন জানতে চায়, “আন্টি কেমন আছে রে ? ডাক্তার কি বললো ?”

“এমনিতে ভালোই। ডাক্তার বললো, কথাও বলবে কিছুদিনের মধ্যেই ! ভালো লাগে না রে ! কতদিন মায়ের বকুনি শুনি না।”–তার কণ্ঠে বিষণ্নতা ঢাকা থাকে না।

“সব ঠিক হয়ে যাবে। মা বলছিল, আমার এক মামারও এইরকম হয়েছিল। এখন পুরো সুস্থ।”–টিনটিন সান্ত্বনা দেয়।

এরইমধ্যে সুজিত ফিরেছে অফিস থেকে।

এসেই ডাকে, “পুপু পুপু…!”

“যাই রে। বাবা ডাকছে।”

টিনটিন বলে, “হ্যাঁ রে। আমিও যাই। তুই বাকিটা পরে দেখে নিস। দরকার হলে ডাকিস।”

 

সেদিন বিকেল হতেই ঈশান কোনে মেঘ জমে। কালবৈশাখীর পূর্বাভাস। সুমনার ঘরে পুপু আর টিনটিন। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে বাসনপত্রের আওয়াজ। বসার ঘর থেকে টিভির শব্দ। বাবা খবর দেখছে।

টিনটিন বলে, “আমাকে যে ডিনারের নেমন্তন্ন করে খিচুড়ি খেতে ডাকলি, রান্নাটা করবে কে ?

 “কেন ? দিদুন আছে না? দারুণ খিচুড়ি বানায় দিদুন। তুই একবার খেলে কোনওদিন ভুলবি না!”–বলে পুপু।

“যাই বলিস, সুমনা আন্টিও কিন্তু দারুণ রান্না করে। সেই একবার কাবাব খেয়েছিলাম !”

টিনটিনের কথার মাঝেই হঠাৎ ঘন্টি বাজে । সুমনার মাথার কাছে এখন একটা কলিং বেল লাগানো হয়েছে। আর পাশের ছোট টেবিলে ঘন্টি। এখন সেটাই বাজিয়েছে সুমনা।

কিছু বলবে মা ?”– পুপুর গলায় উৎকণ্ঠা !

সুমনা খুব মৃদু কণ্ঠে বলে, টিনটিনকে বল, আমি একটু ভালো হলেই ওকে আবার কাবাব বানিয়ে খাওয়াবো!”

পুপু আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠে, “মা, কথা বলেছে। টিনটিন আমার ফোন থেকে বাবাকে জানা এখুনি।” রান্নাঘর থেকে দিদুন, পাশের বাড়ি থেকে শোভা–খবর পেয়ে ছুটে আসে সবাই।

টিনটিন বলে, “আঙ্কেল চলে আসছে খুব তাড়াতাড়ি। ডাক্তারবাবুকেও খবর দিয়েছেন উনি।”

একটু পরে–ডাক্তার আঙ্কেল সুমনাকে পরীক্ষা করে বললেন, “নাহ। ভালোই আছেন উনি। তবে, আজ অনেকদিন পর কথা বললেন। নার্ভ একটু চঞ্চল। আজ ওঁকে তাড়াতাড়ি খাইয়ে শুইয়ে দেবেন। আমি কাল আবার আসবো।”

 

পুপু কাঁদো কাঁদো গলায় মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘মা, তোমার আর কোনও কষ্ট নেই তো ?”

জবাবে সুমনা,”না পুপু, আমি ভালো আছি।”

“কতদিন বকোনি আমায় ! একটু বকবে আজ ?”

সুজিত বলে, “হ্যাঁ, আমাকেও...!” সবাই খুশির হাসি হাসে।

দিদুন বলে, “এই রে, খিচুড়ির কথা তো ভুলেই গেছিলাম!”–কমলাকে নিয়ে রান্নাঘরে ছোটেন তিনি।


পাঠকদের মন্তব্য

nitishbasu07@gmail.com লিখেছেন... ১৪ই জুন, ২০২৬
গল্পটা খুব ভালো লাগলো কিন্তু আকারে বড় ।
পিয়ালী গাঙ্গুলি লিখেছেন... ১৪ই জুন, ২০২৬
কী মিষ্টি একটা গল্প। একেবারে চোখের সামনে ভাসছে মনে হল।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up