বুদ্ধিমান চড়ুই আর দুষ্টু বানর
সুশোভন দাশগুপ্ত
বনের ধারে একটা বড় আমগাছে থাকত ছোট্ট একটা চড়ুই পাখি। তার নাম ছিল টুকটুক। টুকটুক খুব পরিশ্রমী ছিল। প্রত্যেক দিন ভোরে সে খাবার জোগাড় করত, নিজের বাসা পরিষ্কার রাখত আর অন্য পাখিদেরও সাহায্য করত।
একই গাছে থাকত এক দুষ্টু বানর। তার নাম ছিল ঝমঝম। সারাদিন সে এ ডাল থেকে ও ডালে লাফিয়ে বেড়াত, অন্যের জিনিস নষ্ট করত আর সবাইকে বিরক্ত করে আনন্দ পেত।
একদিন দুপুরে ঝমঝম দেখল, টুকটুক অনেক কষ্ট করে কয়েকটা ধানের শীষ এনে বাসায় রেখে দিয়েছে। বানরটা দুষ্টুমি করে সব ধান নিচে ছুড়ে ফেলল। টুকটুক কিছু বলল না। সে শুধু হাসিমুখে আবার ধান কুড়িয়ে আনতে লাগল।
এর বেশ কয়েকদিন পর আকাশে কালো মেঘ জমল। শুরু হলো তুমুল ঝড় আর বৃষ্টি। ঝমঝমের থাকার মতো কোনো নিরাপদ জায়গা ছিল না। ভিজে কাঁপতে কাঁপতে সে গাছের ডালে বসে রইল। এদিকে টুকটুক তার ছোট্ট বাসার ভেতরে বেশ নিশ্চিন্তেই ছিল।
বানরটা লজ্জা পেয়ে বলল, “টুকটুক, আমি তোমার সঙ্গে অনেক দুষ্টুমি করেছি। তবু, তুমি কি আমাকে একটু আশ্রয় দেবে?”
টুকটুক বলল, “আমার বাসা তো খুব ছোট। তবে তুমি এই মোটা ডালের নিচে এসে দাঁড়াও। আমি বড় বড় পাতা এনে ঢেকে দিচ্ছি, এতে তোমার বৃষ্টিটা কম লাগবে।”
চড়ুইটা বারবার উড়ে গিয়ে পাতা এনে বানরটার মাথার ওপর সাজিয়ে দিল। ঝমঝম অবাক হয়ে গেল। যে পাখিটাকে সে এত কষ্ট দিয়েছে, সেই-ই আজ তাকে এতটা সাহায্য করছে।
বৃষ্টি থামার পর বানরটা বলল, “আজ আমি বুঝেছি, দুষ্টুমি করে বন্ধু পাওয়া যায় না। অন্যকে সাহায্য করলে তবেই সবাই ভালোবাসে।”
সেদিন থেকে ঝমঝম আর কাউকে বিরক্ত করত না। সে গাছের ফল পেড়ে ছোট পাখিদের খেতে দিত, আর টুকটুকের সঙ্গে মিলেমিশে আনন্দে দিন কাটাতে লাগল।
পাঠকদের মন্তব্য
250