ছোটোদের চাঁদের হাসি / দেশ-বিদেশের গপ্পো / অক্টোবর ২০২৬

ময়ূরের গল্প

(মেঘালয় রাজ্যের গারো উপজাতির লোককথা)

 

অনেক অনেক দিন আগে কোনো এক গ্রামে বাস করত মস্ত এক ধনী লোক। তার ছিল একটি মাত্র কন্যা সন্তান। পরমা সুন্দরী সেই কন্যার যেমন সুন্দর দেহ-বল্লরী, তেমনি  সুশ্রী লাবণ্যে ভরা তার মুখ। একমাত্র সন্তান এই মেয়েটিকে বাবা খুব ভালোবাসতেন। বহু মূল্যবান জামাকাপড়, অলংকার কিনে আনতেন মেয়ের জন্য।

      দিন যায়, বছর পার হয়। তার বাবা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তার জন্যে একটা অপরূপ সুন্দর পোশাক আনলেন দেবতাদের কাছ থেকে।

 

     মেয়ে বড় হচ্ছে। এবার তার বিবাহ দিতে হয়। বাবা অনেক খুঁজে এক অতি সুপুরুষ, সুন্দর স্বভাবের বর খুঁজে পেলেন মেয়ের জন্য। মহা ধুমধামে বিয়ে হল মেয়েটির। এত সমারোহ এত জাঁকজমকের বিয়ে সে গ্রামে আগে কখনো হয়নি। গ্রামের লোকেরা ধন্য ধন্য করতে লাগল। ধনী লোকটি তার বাড়ির কাছেই মেয়ের জন্য অতি সুন্দর একটি মহল তৈরি করে দিলেন বসবাসের জন্য। মেয়ে তার চোখের সামনে থাকবে। নয়নের মণিকে তিনি দূরে যেতে দিতে পারবেন না। 

 

       সুখে আছে মেয়ে-জামাই। বেশ কয়েকবছর কেটে গেছে। সুন্দরী মেয়েটির মা-বাবা গত হয়েছেন।    

      একদিন দুপুরবেলা মেয়েটি পরিপাটি করে সেজেগুজে হাতে একটি ছিপ নিয়ে স্বামীর কাছে এসে জানালো সে তার সখীদের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে। স্বামীকে সে আরো জানালো দেবতাদের কাছ থেকে তার বাবা তাকে যে পোশাকটি এনে দিয়েছিল, সেটি সে আজ কেচে উঠোনে দড়িতে শুকোতে দিয়েছে। ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি যাই হোক না কেন, সে যেন ওই  পোশাকটি দড়ি থেকে তুলে আনতে না যায়। তাহলে বিপদ হবে।

 

      মেয়েটি চলে যাবার পর সত্যি আকাশ কালো মেঘে ভরে গেল। প্রথমে ঝড় আর বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি শুরু হল। মেয়েটির স্বামী, স্ত্রীর নিষেধের কথা মনে রেখে অনেকক্ষণ পোশাকই তোলেনি। হঠাৎ তার মনে হলো, আহা রে এমন চমৎকার পোশাকটা ভিজে যাচ্ছে। সে নিষেধ ভুলে দৌড়ে গেল পোশাকটি তুলতে। ওদিকে মেয়েটিও তখন নদী থেকে ফিরছে। দূর থেকে সে স্বামীকে দেখতে পেয়ে হাত তুলে চিৎকার করে মানা করতে লাগল। কিন্তু তার চিৎকার ঝড়-বৃষ্টিতে স্বামীর কানে গেল না। মেয়েটি ছুটতে ছুটতে এলো কাপড়ের কাছে—কিন্তু ততক্ষণে তার স্বামী পোশাকটিতে  হাত রেখেছে। মেয়েটিও হাত রেখে ফেলেছে।

 

      তখনই প্রচন্ড জোরে শিলাবৃষ্টি হতে লাগল এবং এরা স্বামী-স্ত্রী দুটি সুন্দর বড় পাখিতে রূপান্তরিত হলো। স্বামী আগে পোশাকটি ছুঁয়েছিল তাই সে পেল পোশাকের কাপড়ের মতো রঙিন ঝলমলে কারুকার্য করা একটি অপরূপ পুচ্ছ। যেমনটি আর কোন পাখির নেই। সে হলো ময়ূর। মেয়েটি হল ময়ূরী। সে অবশ্য সুন্দর ঝলমলে পুচ্ছ পেল না।

       কি আর করা ? ওরা দুজন ঘরবাড়ি ছেড়ে বনে চলে গেল। সেখানে তারা সুখে বসবাস করতে লাগল।

      এখনো তাই ময়ূররা আকাশে মেঘ ঘনিয়ে এলে পেখম তুলে চিৎকার করে। আমরা মানুষরা ভাবি আনন্দে পেখম ছড়িয়ে নাচছে!


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up