মধুরানি
মূল রচনা কন্নড়
লেখক : ডা. অনুপমা নিরঞ্জনা
ভাষান্তর : অরুন্ধতী ঘোষ
এক রাজা ছিল। তার তিন ছেলে। ছেলেরা বড়ো হয়ে পৃথিবী দেখতে বেরোল। যেতে যেতে তারা রাস্তায় একটি বিশাল পিঁপড়ের বাসা দেখতে পেল। বড়ো এবং মেজো রাজপুত্র তখুনি সেটা ভেঙে ফেলার জন্যে তৎপর হয়ে উঠল। কিন্তু ছোটো রাজপুত্রটি বলে উঠল, “বেচারা পিঁপড়েদের কষ্ট দিয়ে কী লাভ, চলো আমরা আমাদের পথে যাই।”
আরেকটু হাঁটার পর তারা একটা পুকুর পেল। তাতে একটি হাঁস সাঁতার কাটছিল। বড়ো এবং মেজো ভাই এবার সেটা ধরতে চাইল। কিন্তু ছোটো ভাইটি বলে উঠল, “কেন শুধু শুধু ওকে বিরক্ত করা, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।”
কিছুদূর এগিয়ে এবার তারা একটি গাছে মৌচাক ঝুলছে দেখতে পেল। বড়ো দুই রাজপুত্র আগুন জ্বালিয়ে, মৌমাছি তাড়িয়ে মধু খাবার বাসনায় মেতে উঠল। কিন্তু এবারও ছোটো ভাইটি বলল, “এই প্রাণীদের কষ্ট দিয়ো না। ওদের নিজেদের মতো থাকতে দাও।”
বেশ কিছু দিন ঘুরে ফিরে অবশেষে তারা এক রাজার প্রাসাদে পৌঁছল। প্রাসাদের চারিদিকে অনেকগুলি শ্বেতপাথরের মানুষের মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সৈন্যদের জিজ্ঞেস করে জানা গেল যে যারা রাজার দেওয়া কঠিন কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারে না, তারা এই ধরনের মূর্তিতে পরিণত হয়। তিনজন সাহসী রাজপুত্র রাজার কাছে গিয়ে বলল “হে মহারাজ, আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।”
রাজা তাদের প্রথম কাজটি দিলেন। কাজটি এই, জঙ্গলের শ্যাওলার উপর রাজকন্যার গলার হারের এক হাজার মুক্তো ছড়িয়ে আছে। সূর্যাস্তের আগে সেগুলো তুলে আনতে হবে। না হলে মূর্তি হয়ে যাবে।
প্রথম ভাই বনে গেল। কিন্তু একশোটা মুক্তো সংগ্রহ করতেই রাত হয়ে গেল। আর সে একটা পাথরের মূর্তিতে পরিণত হলো। দ্বিতীয় ভাই সংগ্রহ করতে পারল মাত্র দুশো মুক্তো। তারপর সেও মূর্তি হয়ে গেল। এবার ছোটো ভাইয়ের পালা এলো। তা সে তো দুই ভাইকে হারিয়ে খুব মন খারাপ করে বসে আছে। এমন সময় যে পিঁপড়ের রাজাকে সে বাঁচিয়েছিল সে এসে হাজির। বললো, “রাজপুত্র, আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?” রাজপুত্র তাকে নিজের দুঃখের কথা শোনাতেই সে তার পিঁপড়ের দলবল নিয়ে সূর্যাস্তের আগেই এক হাজার মুক্তো সংগ্রহ করে আনল।
রাজা বললেন, “ঠিক আছে, এ তো একটা হলো, এবার দ্বিতীয় কাজ। রাজকন্যার ঘরের চাবি পুকুরে পড়ে গেছে। তুলে আনো।” এখন, রাজপুত্র যে হাঁসটিকে বাঁচিয়েছিল সে এসে এক ডুবে পুকুরের গভীর থেকে চাবিটা মুখে করে তুলে নিয়ে চলে এলো।
“এখন তৃতীয় কাজ। তিনজন রাজকন্যা আছে এবং তারা সবাই একই রকম দেখতে। তাদের মধ্যে একজন চিনির শরবত খেয়েছে, আরেকজন পায়েস খেয়েছে এবং তৃতীয়জন মধু খেয়েছে। যে মধু খেয়েছে তাকে সনাক্ত করতে হবে তোমাকে”–বললেন রাজা।
ছোটো রাজপুত্র কিছুক্ষণ ভাবল, কিন্তু, কিছুই বুঝতে পারল না। হঠাৎ সেই মক্ষীরানি যাকে সে বাঁচিয়েছিল, সে কোথা থেকে উড়ে চলে এলো। তিন রাজকন্যার ঠোঁটের চারপাশে খানিক ঘোরাফেরা করে, যে মধু খেয়েছে তার ঠোঁটে বসে পড়ল। রাজপুত্র অবিলম্বে রাজকন্যাকে শনাক্ত করল।
তারপর সেই কনিষ্ঠ রাজকুমারী এসে কনিষ্ঠ রাজকুমারের গলায় মালা পরিয়ে দিল। বড়ো আর মেজো রাজপুত্রও প্রাণ ফিরে পেল। বাকি দুই রাজকন্যা সেই দুই ভাইকে বিয়ে করে সবাই মিলে সুখে ঘরকন্না করতে লাগল।
পাঠকদের মন্তব্য
250