ছোটোদের চাঁদের হাসি / দেশ-বিদেশের গপ্পো / জানুয়ারি ২০২৬

চড়ুই এবং তার ছানা

ডা. অনুপমা নিরঞ্জনা 

(মূল রচনা : কন্নড় ভাষা) 

ভাষান্তর : অরুন্ধতী ঘোষ

 

একটি ভুট্টা খেতে এক চড়ুই বাসা বেঁধেছিল। তার ছানাগুলো একটু বড়ো হলে মা-চড়ুই তাদের জন্য খাবার আনতে গেল। বাসা ছাড়ার আগে সে তার ছানাদের পইপই করে বলে গেল, “কোনোরকম কথা কানে এলে আমাকে অবশ্যই জানাবি।” ছানারা বলল, “হ্যাঁ মা, বলব।”

          মা চড়ুই চলে যাওয়ার পর সেখানে সেই জমির কৃষক এসে হাজির। খেতের ভুট্টা পেকেছে আর তা কাটবার জন্য একদম প্রস্তুত দেখে সে তার ছেলেকে বলল, “আগামিকাল আমাদের সব পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়। আমরা সবাই সকাল সকাল এখানে এসে ভুট্টার ফসল কাটব।”

      একথা শুনে চড়ুইছানারা ভীষণ ভয়ে কেঁপে উঠলো। মা ফিরে এলেই তাকে ওই কৃষকের কথা বলল, আর “আম্মা, আমাদের অন্য জায়গায় নিয়ে যাও”–এই অনুরোধ করতে লাগল। কিন্তু তাদের মা বলল, “আমার বাচ্চারা, একদম ভয় পাসনে। কৃষক যদি তার প্রতিবেশীদের উপর নির্ভর করে, তবে সে মোটেই আগামিকাল ফসল তুলতে পারবে না।”

     

কৃষক পরদিন সকালে মাঠে এসে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করল। তার প্রতিবেশীদের মধ্যে কেউই দেখা দিল না। রেগে-মেগে সে ছেলেকে বলল, “এই প্রতিবেশীদের জন্য অপেক্ষা করে লাভ নেই। বরং আমাদের সকল আত্মীয়স্বজনকে ডেকে আন। আগামিকাল সকালে তাদেরকে সাথে নিয়েই আমরা এখানে এসে ভুট্টা কাটব।”

       মা-চড়ুই আবার তার ছানাদের কাছ থেকে এই খবর পেল। আর এবারও আগের মতো ছানাদের বলল, “ভয় পাস না বাচ্চারা। এই কৃষক যদি তার আত্মীয়দের জন্য অপেক্ষা করে, তাহলে আগামিকালও সে ভুট্টা কাটতে পারবে না।”

       পরের দিন কৃষক মাঠে এসে আবার অপেক্ষা করতে লাগল। বিকেল হয়ে গেল, কিন্তু কোনো আত্মীয়ই এলো না। এবার সে সত্যিই খুব রেগে গেল। ছেলেকে বলল, “এবার আমরা আর কারও জন্য অপেক্ষা করব না। আগামিকাল শুধু তুই আর আমি–আমরা দু’জনেই এখানে এসে কাজ শেষ করব, ভুট্টা বাড়ি নিয়ে যাব।”

         ছানাদের কাছে একথা শুনেই মা-চড়ুই বলল, “এবার কৃষক সত্যিই ফসল কাটতে যাচ্ছে। চল এখান থেকে যাবার সময় হলো আমাদের।” এই বলে তার ছানাদের নিয়ে অন্য জায়গায় উড়ে চলে গেল।


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up