ছড়া-কবিতা
স্যার জগদীশ বোস
(শ্রদ্ধায়-স্মরণে)
পার্থ সিনহা
অবিশ্বাস্য ব্যাপার সেদিন ঘটল অকস্মাৎ
লোক ভাবে সব মিথ্যে কথা, বাড়িয়ে বলা ধাত!
সারাটাদিন পড়াশোনা, খেলাধুলার পর
একটুখানি জিরিয়ে নেব, নেই যে অবসর!
বাক্স-বাড়ির ছাদের উপর গাছ লাগিয়ে টবে
ভরিয়ে তুলি সারা মহল ফুলের-ই সৌরভে!
ধুলি-ধোঁয়ার মধ্যে থেকে আনন্দ হয় কী যে,
দেখলে দু'টি নবীন পাতা অঙ্কুরিত বীজ-এ!
প্রাণের সাথে প্রাণের তখন নিবিড় যে হয় টান,
বুঝতে পারি ওদের কথা, দুঃখ, অভিমান!
এমন টানেই সেদিন রাতে দাঁড়িয়ে ছাদে ঠায়
কেমন করে ফুল ফোটে সব দেখার অছিলায়!
মায়াবী চাঁদ দিচ্ছে তখন আকাশপারে আলো,
পিছন থেকে কে যেন কয়, “কী খোকা, সব ভালো?
গভীর রাতে করছো কেন ফুলের পরিচর্যা?
এখন ওদের ফোটার সময়, দেখলে পাবে লজ্জা!”
যেই তাকালাম পিছনপানে অবাক চোখে দেখি
বৃক্ষ-প্রেমী বিজ্ঞানী এক দাঁড়িয়ে আছেন, এ-কী!
ভাবছো এমন বাড়িয়ে বলা আমার স্বভাব দোষ
ভুল দেখিনি, ছিলেন তিনি ‘স্যার জগদীশ বোস’!
হালুমহুলুমপুরে
শ্যামলকান্তি দাশ
বাঘটা ছিল অন্ধকারে
বাঘটা ছিল বনে,
সেই বাঘটা এখন থাকে
লোকালয়ের কোণে।
পথ হারানো বাঘটা আছে
মস্ত খেলার মাঠে,
সারাটা দিন ক্রিকেট দেখেও
ভয়তরাসে কাটে।
তারার ফুলে আকাশ ঢেকে
সন্ধে হল যেই,
সারা পাড়ার চতুঃসীমায়
ব্যাঘ্রমশাই নেই।
ছাতিম গাছের টঙে তখন
বাঘটা বসে থাকে,
হলদে কালো ডোরাকাটার
নতুন ছবি আঁকে।
সাতসকালে চিল্লামিল্লি
বাঘ গিয়েছে দূরে,
কোথায় গেছে? কোথায় গেছে?
হালুমহুলুমপুরে।
আমরা শিশু চাঁদের হাসি
কাজী মুরশিদুল আরেফিন
আমরা শিশু আমরা কিশোর
আমরা বেড়ে উঠি,
এই যে দেখো মায়ের কোলে
ফুলের মতো ফুটি।
এই যে হাতে লাট্টু আছে
বনবনিয়ে ঘোরে,
আকাশ জুড়ে ওড়াই ঘুড়ি
লাটাই রাখি ধরে।
তারার দেশের বন্ধু কত
ওরাই আলোর পাখি,
সাগর-পাহাড়-মরু বিজয়
থাকবে না তো বাকি।
আমরা শিশু আমরা কিশোর
আমরা চাঁদের হাসি,
মনের ভিতর আমরা সাজাই
স্বপ্ন রাশি রাশি।
আমরা লিখি আমরা পড়ি
দল বেঁধে সব নাচি,
আমরা আঁকি সাতটি রঙে
আনন্দেতে বাঁচি।
তোমরা যারা অনেক বড়ো
হাতটা ধরে রাখো,
আঁধার রাতেও চাঁদের আলোয়
পেরিয়ে যাবো সাঁকো !!
যাস না রে তুই
অপূর্বকুমার কুণ্ডু
একটু দাঁড়া, একটু দাঁড়া, যাস না এখন, আয় রে ফিরে,
সূর্য কখন ডুবে গেছে, দেখ না আঁধার ধরছে ঘিরে।
সাঁঝতারাটা যাচ্ছে দেখা, দেখ চেয়ে ওই আকাশ কোণে
একলা এখন যাবি কোথায়? ছুটিস কেন আপনমনে !
মাঠ পেরিয়ে কোথায় যাবি? বুঝি না তোর কীসের তাড়া,
যা বলি তুই শোন না বাপু, তুই যেন এক সৃষ্টিছাড়া।
মাঠ পেরলেই বন দাঁড়িয়ে, সেই বনে কেউ যায় না রাতে,
হাজার বিপদ ছড়িয়ে আছে, ফল পাবি ঠিক হাতেনাতে।
অন্ধকারে বনের ভিতর ভয়গুলো সব বেড়ায় ঘুরে,
যাস না রে তুই বনের দিকে, ভয়েই যাবে প্রাণটা উড়ে।
শুকনো পাতায় পথটা ঢাকা, ভয় যেন সব বিছিয়ে রাখে,
বিপদ এলে পার পাবি না, বনটা ভয়ের চিত্র আঁকে।
অন্ধকারে দেখতে পাবি জ্বলজ্বলে চোখ গাছের ডালে,
দেখলে পরেই মুচ্ছা যাবি, ভয় লুকিয়ে তার আড়ালে।
আরো আছে, বলবো কত, 'তেনারা' সব ঘাপটি মেরে,
চুপটি করে লুকিয়ে থাকে, দেখলে তোকে আসবে তেড়ে।
আজও তবু
প্রণব চৌধুরী
আজ সকালে এই শহরে
হঠাৎ করে দেখা,
দাঁড়িয়ে আছে বাঁশবাগান এক
পথের ধারে একা।
হারিয়ে গেছে কাজলাদিদি,
কোথায় বা ওর সই!
ফুলের গন্ধে আজও তবু
একলা জেগে রই।
থোকায় থোকায় জোনাকজ্বলা
সন্ধে কোথায় পাব?
কাজলাদিদি, তবু আমি
তোমার বাড়ি যাব।
নাইবা এখন রইল তোমার
আপন মানুষজন,
বাঁশবাগানও আগের মতো
দাঁড়িয়ে অনুক্ষণ।
আমার স্মৃতির আকাশজুড়ে
তোমার ছবি আঁকা,
ইচ্ছে হলেই সেদিনগুলো
যায় কী ভুলে থাকা!
এগিয়ে চলো
সুলতা চ্যাটার্জি
এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো, কাটিয়ে মনের ভয়,
এগিয়ে চলার পথেই জেনো, হবেই হবে জয়।
সঠিক পথে এগিয়ে যাবো, সকল বাধা ঠেলে,
স্বপ্ন মনের করবো পূরণ, হাজার ক্লান্তি ভুলে।
চলার পথে আসুক বাধা, হোক যত কঠিন,
ঝড়ের মতো এগিয়ে গিয়ে, আনবো শুভ দিন।
অন্যায়কে সরিয়ে দিয়ে, ন্যায়ের পথে চলবো,
মাথা তুলে সত্য কথা, বিনা দ্বিধায় বলবো।
জ্ঞান, গরিমা, শক্তি, সাহস দেখিয়ে দেবে পথ
এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো, সামনে ভবিষ্যত !
পাঠকদের মন্তব্য
250