ছড়া-কবিতা
বিচ্ছু ছড়া কিচ্ছু
অশোককুমার মিত্র
সুনীল মাধব দাস ছিল
তার বন্ধু আব্বাস ছিল।
দুজনেরই হাঁস ছিল।
হাঁস দুটি কি হাসছিল?
কালীকিঙ্কর ধর ছিল
পুকুরে মাছ ধরছিল।
মাছ খালুইয়ে ভরছিল।
তাদের ভারী দর ছিল।
চন্দ্রবদন ঘোষ ছিল
তার যে বালাপোষ ছিল
তাতে বুরুশ ঘষছিল।
তার কিছু কি দোষ ছিল?
জ্যোতির্ভুষণ বল ছিল
রাজার মতন চল ছিল।
পাড়া পড়শি বলছিল,
তার টাকা ছাপার কল ছিল।
ছড়াগুলো
শ্যামলকান্তি দাশ
ছড়াগুলো আউশ আমন
মাঠভরা নতুন ধানের,
ছড়াগুলো ভুবনভাঙার
আধশোনা বাউল গানের।
ছড়াগুলো নীলচে আকাশ
ফুর ফুর শীতের হাওয়া,
ছড়াগুলো গড়ের মাঠে
সন্ধ্যায় কুড়িয়ে পাওয়া।
ছড়াগুলো চিলের পালক
ছড়াগুলো রসিক বিলের,
ছড়াগুলো গানের মতন
ছড়াগুলো ছন্দমিলের।
ছড়াগুলো মাটির বাড়ির
লতানো কুমড়ো গাছের,
ছড়াগুলো বোসপুকুরের
পুঁটি মৌরলা মাছের।
ছড়াগুলো নতুন দিনের
ছড়াগুলো অনেক আশার,
ছড়াগুলো প্রাণের পিদিম
আমাদের বাংলা ভাষার।
এই শিশুরা
কাজী মুরশিদুল আরেফিন
এই শিশুরা তারার মতো
ছড়ায় আলো ঘরে,
এই শিশুরা স্বপ্নগুলো
সাজায় থরে থরে।
এই শিশুরা ফুলের কুঁড়ির
মাখছে ভালোবাসা,
বিশ্বজুড়ে মায়ের কোলে
ওরাই নতুন আশা।
শিশুর মুখের মিষ্টি হাসি
ছড়ায় খুশি মনে,
এই শিশুরা থাকবে কেন
আঁধার ঘরের কোণে?
ছুটছে আকাশ, ছুটছে বাতাস
ছুটছে সাগর নদী,
এই শিশুরা আকাশ ছোঁবে
পাশেই থাকো যদি।
পড়ছে ওরা লিখছে ওরা
খেলছে খোলা মাঠে,
চাঁদের হাসি ছড়ায় ওরা
সূর্য গেলে পাটে।
জহরলালের জন্মদিনের
রক্তগোলাপ বুকে,
এই শিশুরা বিশ্ববিজয়
করবে হাসিমুখে।
সুর
বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী
হেমন্তের ঘ্রাণ
কৃষকের প্রাণ
তাল লয় সুর
হয় না বেসুর।
তাই মাঝে মাঝে
সারাদিন বাজে
মন আনচান
ইমনকল্যাণ।।
মাঝে কিছু ভয়
করে নিলে জয়
পাখিদের গান
মাঠ ভরা ধান।
পিঠে আর পুলি
খেলে ডাংগুলি
মজা করে খাই।
আমি ও কানাই।।
রেলের গপ্পো
ঋত্বিক ঠাকুর
ও রেলের গাড়ি, চলেছ কোথায়, ভাই,
কোন সুদূরের দেশ।
আমাকেও চলো নিয়ে, টুক করে একপাক
ঘুরে আসি বেশ…!
ঝিকঝিক রেলগাড়ি হেসে কুটিকুটি
ধুস্ বোকা, আমাদের আছে নাকি ছুটি!
লাইনে চাকায় বাঁধা এ গাড়ির গৎ
সাধ্য কী এড়াই তাকে ধরি ইচ্ছে পথ!
এদেশে সেদেশে যাই অল্পই বিশ্রাম
ফেলে রাখে ছাউনিতে কারশেড নাম।
তুই বড়ো ভালো ছেলে, বল, খোকা,
কী যে বলি তোকে
আমাদের দুঃখ নিয়ে লেখেনি
কখনও কোনও লোকে।
তোর বাসা স্টেশনের পাশে
কত যাত্রী রোজ যায় আসে
তাকায় না পিছে কেউ
ভুল করে ফেরার বেলায়,
খেয়ে দেয়ে কারও তো
পড়েনি কোনও দায়!
খোঁজ নেবে কী উপায়ে
রেলের জীবনগাড়ি চলে
কি খায় কি পরে বারো মাস,
কিভাবে সংসার চলে!
শুধু জানে রেলকলোনির কিছু
বিচ্ছু লক্ষীছাড়া ছেলে
আমাকে আদর করে খাঁ খাঁ
কামরায় হেসে খেলে।
ফেলে যায় একমাঠ উধাও
খিদে ডানপিটে আলো
এই নিয়ে বেঁচে থাকা,
গড়িয়ে গড়িয়ে আছি ভালো !!
ভালোবেসে
তনুজা চক্রবর্তী
কত কিছু ভাবি রোজ ভুগি নানা শঙ্কায়
সন্দেশে চিনি নেই ঝাল নেই লঙ্কায়।
বাঁদরের লেজ নেই পাখিদের ডানা
কাঁদবেনা মেঘগুলো আর একটানা।
সূর্যের তেজ নেই চাঁদ-মুখে হাসি
মরা নদী শুখা মাঠ সুর-হারা বাঁশি।
ভাবনার মানে নেই কোনো আগামাথা
কলমের ঘুম নেই ভরে সাদা পাতা।
শব্দের সাথে কাল হয়ে গেল আড়ি
জানি না সে কোন দেশে দিল কাল পাড়ি!
আসবে না কাছে আর ফুটছিল রাগে
এমনটা কোনোদিন হয়নি তো আগে!
ঠিকানাটা খুঁজে নিতে একবার যাবি?
ভালোবেসে ডাকলেই সব ফিরে পাবি।
পাঠকদের মন্তব্য
250