ছোটোদের চাঁদের হাসি / ছড়া - কবিতা / মে ২০২৬

ছড়া-কবিতা

কবির ছবি

কাজী মুরশিদুল আরেফিন

 

আমার আছে পাহাড় নদী

তোর তো শুধুই আকাশ,

বলতে পারিস এমন কেন

চাঁদের দিকেই তাকাস?

 

তোর কি তবে ইচ্ছে খুবই

চাঁদের ছবি আঁকার,

এই যে দিলাম কলম তুলি

জায়গা কোথায় রাখার?

 

তুই তো পথের ধারেই থাকিস

সুর্য আঁকিস একাই,

আয় না তোকে কবিগুরুর

একটা ছবি দেখাই।

 

কবির ছবি আঁকতে পারিস

দেখলে দু’চোখ জুড়োয়,

এই ছবিটা পাঠিয়ে দেবো

ওই যে আকাশ চুড়োয়।

 

ওইখানেতে রবীন্দ্রনাথ

সূর্য হয়ে বাঁচেন,

মুকুটমনি সবার কবি

মাথার ওপর আছেন।

 

কবির আলোয় জগৎ ভাসে

ছন্দে গানে কাটাই,

জন্মদিনের প্রণামটুকু

কবির কাছে পাঠাই।

 

  

 

বাবুই ও চড়াই

বারিদবরণ ভট্টাচার্য্য

 

চড়াই বলে, বাবুইরে তুই বড্ড বেশি বোকা,

সারাটা দিন তালপাতাতে মারলি শুধুই টোকা!

কেন অমন কষ্ট করে বানাসরে তোর ঘর,

বল না কেন তাল গাছে তোর বিশ্ব চরাচর ?

 

একটি দুটি পাতার ফাঁকে কোন সে অভিমানে

দালান ছেড়ে কাঙাল হয়ে রইলি পড়ে বনে ?

দুঃখ কেন মনের মাঝে ? কোন সে অভিপ্রায়–

চড়াই বলে বাবুইরে তুই কী পেলি বল ভাই ?

 

তালপাতাতে বোনা সে এক ছোট্ট কাঁচা ঘর

তাই নিয়ে তোর গর্ব ভারি, শিল্পেরই বহর!

সুখের বাসা ভাঙবে যেদিন নিদাঘ বেলা ছেয়ে

তখন আমি দালান ঘরে রইবো শুধুই চেয়ে!

 

বাবুই বলে হোক কাঁচা ভাই, তবুও আমি স্বাধীন,

পরের দয়ায় বাঁচা সে তো বড়োই পরাধীন।

আনন্দেতে থাকি রে ভাই আনন্দেতে বাঁচি

স্বাধীনতার স্বাদ যে বড়ো, তাই তো সুখে আছি।

 

ও বাসা তো পরের বাসা, তোমার কোথা ভাই?

বড়াই করা বৃথা রে...যার নিজের বাসা নাই !

সেই বাসাটা ভাঙবে যেদিন, থাকবে তুমি কোথা?

দেখবে সেদিন জীবন তোমার ষোল আনাই বৃথা..!

 

 

 

চৈত্র দিনে

গৌতম হাজরা

 

চাঁদের সাথে খেলছিল মেঘ

আপনমনে মধ্যরাতে

আকাশ তখন বনবনাবন

ঘুরছিল ওই খোলা ছাতে।

তারাগুলো জ্বলছিল সব

জোনাক হয়ে মিটির মিটি

চৈত্র দিনে কে পাঠালো

ছন্দ-ছড়ার খোলা চিঠি ?

পাখির ডানায় খবর এল

ধিনতাধিনাক শব্দ তুলে

মৌমাছিরা ঘুরছে দেখি

রঙবেরঙের হরেক ফুলে।

কী লিখেছে চিঠিতে সব

উদাস করা মিষ্টি খামে

চৈত্রদিনে আগুন ঝরা

ডাকবাক্সের গন্ডগ্ৰামে!

 

 

 

ওই এলো গ্রীষ্ম

অর্ণব ভট্টাচার্য

 

শীত গেল, শীত গেল,

বসন্ত পেরোলে,

গনগনে গ্রীষ্মটা

ওই বুঝি এলো রে।

 

খটখটে, থমথমে

বিচ্ছিরি ঋতুটা,

বাইরেতে যেতে হলে

ভয়ে কাঁপে ভীতুটা।

 

ভয় তা তো করবেই

রোদখানা দেখোনি?

ওরে বাবা! ফ্যানখানা

অন কর এখনি।

 

হাঁটলেই ক্লান্তিতে

জিভ পড়ে বেরিয়ে,

ছাতা নিয়ে চলি তাই

রোদখানা এড়িয়ে।

 

ঘেমেনেয়ে, লস্যিতে

কন্ঠটা ভেজানো,

পাহাড়ের ঠিকানাটা

বলে দাও যে জানো।

 

এ ঋতুর ভালো দিক

আছে শুধু দুটি তো,

পাওয়া যায় আম আর

গরমের ছুটি তো।

 

 

 

ছেলে এক

শীতল চট্টোপাধ্যায়

 

ঢেউ-ঢেউ ছেলে এক

পাখি-পাখি মন,

ফুল-ফুল চোখ মেলে

দেখে সারাক্ষণ।

 

রোদ-রোদ হাসি ওর

আলো-আলো দাঁত,

উড়ু-উড়ু হয়ে ছেলে

দেয় তুলে হাত।

 

ভাই-ভাই মুখখানা

ভাব-ভাব হাসি,

পাতা-পাতা ঠোঁটে যেন

বেজে ওঠে বাঁশি।

 

চাঁদ-চাঁদ রূপে ছেলে

তারা-তারা চায়,

খোঁজ-খোঁজ ভাবে ও-যে

ঘুম খুঁজে পায়।

 

 

 

দাদুর গল্পে ঝড়ের কথা

সৌম্যস্বপন চক্রবর্তী

 

দাদুর গল্পে ঝড়ের কথা

বৃষ্টি দিনের গান,

দিদার গল্পে প্রাণের আবেশ

সময়ের অভিমান।

 

কাকার গল্পে আলোর কথা

জীবনের ফুল ফোটে,

জেঠুর গল্পে নদীর আবেশ

ফসলের হাঁক ওঠে।

 

মামার গল্পে রাজার কথা

রাজকন্যার দুখ,

বাবার গল্পে মাটির সোহাগ

মায়েদের হাসিমুখ।

 

দিদির গল্পে চাঁদের কথা

মেঘকন্যার ভাষা,

দাদার গল্পে পাখির কূজন

গাছেদের ভালোবাসা।

 

মায়ের গল্পে মানুষের কথা

পৃথিবীটা মধুময়,

মাসির গল্পে রবির কিরণ

আঁধারের পরাজয়।

 

 

 

নামধাম

শৈলেন কুমার দত্ত

 

ছড়া-টরা লিখব যে কোথা মজা পাই,

চারপাশে যা যা আছে সেদিকে তাকাই।

আজগুবি, হিজিবিজি, র়ঙ্গতে ঠাসা

ব্যঙ্গও কোথা যেন আছে ভাসা ভাসা।

ছন্দের মিল যেটা বড়ো খটোমটো

ঠিকঠাক না হলে কী এতখানি চটো!

ছেলে-বুড়ো যেই দ্যাখে একসাথে হাসে,

ছড়াটাকে সকলে যে কত ভালোবাসে।

কোন ছড়া? কার ছড়া? কে লিখেছে সেটা?

বলো দেখি তাঁর নাম, তিনি কেউকেটা।

গোমড়ার হাসি পায়, কান্নাও থামে?

রঙ্গ কি হুটোপুটি খেলে তাঁর নামে?

আঘাত যা মিশে আছে সূক্ষ তা মাপে

ভারী কিছু নয় সেটা কোনো উত্তাপে!

এত কিছু বলে যাই কী যে নামধাম?

সুকুমার রায় তিনি, তাঁহাকে প্রণাম!


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up