ছোটোদের চাঁদের হাসি / ছড়া - কবিতা / জুন ২০২৬

ছড়া-কবিতা

বই

অশোককুমার মিত্র

 

মা বললেন, ঝিমলি-সোনা, 

পাঁচ হলো তো–এবার সকাল সন্ধে,

নতুন ক্লাসে উঠতে হবে

বই পড়াতে মন দে।

ঝিলম বলে, মা, ভেবো না,

অনেক খুঁজে বীজ এনেছি ওই–

একটু পরে মাটি ফুঁড়ে

বেরুবে এক আকাশ-ছোঁয়া মই।

তখন তারই ধাপে ধাপে

উঠব শুধু, করব না হইচই।

বলো মা তখন ওঠার জন্য

লাগবে কি আর বই?

 

 

সময় কিন্তু অল্প

আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়

 

ছোট্ট একটা যন্ত্র তোমার সঙ্গী

সেই নাকি সব গুণের আধার, বেশ তো

বুঝেছি, তাই ভাবছ তুমি নিজেকে

তুমিই হলে সর্বজয়ী, শ্রেষ্ঠ।

 

আঁকছ ছবি আঙুল ছুঁয়ে যন্ত্রে

আর নিজেকে মাপছ প্রতিটা ইঞ্চি।

ভাবছ নিজেই নিজেকে রামকিঙ্কর

যামিনী রায় অথবা দা-ভিঞ্চি।

 

লিখছ মনের আনন্দে যা ইচ্ছে

পালিশ করা সে লেখা নয় মন্দ–

তবে, তাতে নেই হৃদয়ের স্পর্শ

একটুও নেই তাতে মাটির গন্ধ।

 

আসল কথা আসল-নকল সবটাই

গুলিয়ে দিচ্ছে জেনো তোমার যন্ত্র।

ভুলিয়ে দিচ্ছে কোথায় প্রাণের স্পন্দন,

ভুলিয়ে দিচ্ছে ভালোবাসার মন্ত্র।

 

কাজেই ফেরো নদী-পাহাড়-অরণ্যে

জেনো এদের নেই কোনও বিকল্প।

জাগাও প্রাণে হাওয়ার গানের সুরটি,

হাতে কিন্তু সময় খুবই অল্প।

 

 

ডাক

শীতল চট্টোপাধ্যায়

 

ডাক কী শুধু গলার স্বরে?

স্বর ছাড়া যায় হাতেও ডাকা,

ডাক ছাড়া ডাক হয়ে থাকে

বাড়ির বাইরে রাস্তা আঁকা।

 

এক সময়ে চৌকিদারে

চলত ডেকে গভীর রাতে,

‘জাগতে রহো’ সে ডাক শুনে

মানুষ পেত ভরসা তাতে।

 

মাঝির ডাকে যাত্রীরা সব

দ্রুত আসে নৌকো ঘাটে,

পাড়ায়-পাড়ায় ফেরিওলা

ডাক দিয়ে সে একলা হাঁটে।

 

ডাকে আসা চিঠি দিতে

পিওন ডাকে নামটা ধ'রে,

খামের ভেতর লেখা খবর

খোলার পরেই পড়বে ঝরে।

 

পেটের খিদের কষ্ট নিয়ে

ভিখারির ডাক দ্বারে-দ্বারে,

বিরোধের খাল কাটলে মানুষ

ডাকের সাঁকো জুড়তে পারে।

 

 

দায়ী

শঙ্খশুভ্র পাত্র

 

বোশেখ নিয়ে চারিদিকে

কথায়-কথায় ছয়লাপ!

ইচ্ছে হলেই উচ্ছে খেয়ে

উচ্চ থেকে ছয় লাফ

দিতে পারি দৈত্য সেজে,

শৈত্যে কোনও হয় লাভ?

 

এমনতর দৃশ্য ভেবে

গ্রীষ্মটিকে দাবড়াই,

শিষ্যগণের কথায় আমি

মিথ্যে কেন ঘাবড়াই?

নিঃস্ব বলেই ভাবছ ভায়া,

বাড়ি আমার হাবড়া-ই?

 

লাবড়া খেয়ে এই তো সেদিন

শরীর পুরো আইঢাই,

নিজেকে তাই প্রশ্ন করি

কেন এমন খাইদাই!

অন্তরাত্মা জবাব দিল,

ইহার জন্য ভাই, দায়ী!

 

 

আপনভোলা

তনুজা চক্রবর্তী

 

বোশেখ ঝড় উঠল নাকি

কূলায় ফেরে বনের পাখি।

 

পাকছে আম পড়লে খাবে

নয় তো আর কোথায় পাবে?

 

পাড়ার মোড়ে দুলছে ডালে

ভাবতে বসে দু-হাত গালে।

 

দেয়না কেউ একটা পেড়ে

পাড়তে গেলে আসবে তেড়ে।

 

বিকেল গেল হয়তো রাতে

উঠতে পারে কালকে প্রাতে।

 

আছে সে বসে ঝড় কী জানে

ভোলে কী মন ছড়ায় গানে ?

 

গড়বে ছড়া ঝড়ের নামে

পাখির ঠোঁটে পাতার খামে।

 

দামাল ঝড়ে মাটির বুকে

কুড়বে আম মনের সুখে।

 

সে যেন এক দুধের শিশু

আপনভোলা পাগলা যীশু।

 

 

মিনির ছড়া

তুহিন কুমার চন্দ

 

বলল মিনি দাওনা আমায়

মুখটা দেখি আয়নাতে,

যেই দিয়েছি আয়না তাকে

করছে পাগল বায়নাতে।

 

লাল ফিতে দাও মাথার কাঁটা ,

নেইল পালিশের বাক্সটা,

মা রেগে কন নাওনা নিজেই

বায়নাতে নেই ট্যাক্সোটা।

 

মাখছে মুখে মায়ের সিঁদুর

মুছছে দিদির ওড়নাতে,

আলতা ছিটোয় ঘরের মেঝেয়

ঠোঁট রাঙালো কায়দাতে।

 

 

 

 


পাঠকদের মন্তব্য

অচিন্ত্য সুরাল লিখেছেন... ১৪ই জুন, ২০২৬
সবকটা ছড়া ভালো লাগল।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up