ছোটোদের চাঁদের হাসি / ছড়া - কবিতা / জুলাই ২০২৬

ছড়া-কবিতা

রথ চলেছে

কাজী মুরশিদুল আরেফিন

 

গড়গড়িয়ে চলছে পথে

রশিতে দাও টান,

জগন্নাথের আকর্ষণে

কেউবা পুরী যান।

 

রথের চাকা বাইরে ঘরে

মাহেশ যেতে চান?

সবাই মিলে টানছে রশি

নেই তো অভিমান।

 

বঙ্কিমবাবুর রাধারানীর

মেলায় দেখা পান?

মহিষাদলে, কোচবিহারেও

আজকে খুশির বান।

 

রবি-কবির রথের রশি-র

চলছে অভিনয়,

থমকে থাকা চলবে না তো

করতে হবে জয়।

 

সাগর পাহাড় মরুভূমির

সফল অভিযান

জীবন জুড়ে এগিয়ে চলার

গাইবো সবাই গান।

 

রথের মেলায় কিনতে হবে

একটা ছড়া গাছ,

রথের দিনে মাসির বাড়ি

এবার শুরু নাচ ।

 

 

 

আমিই না হয়

অপূর্বকুমার কুন্ডু

 

ও পাখি, নীল পাখি তোর পালকখানা পেলে,

পাগড়িটাতে রাখবে গুঁজে এক সে রাখাল ছেলে।

তার তো আছে ছোট্ট বাঁশি, তুলবে খুশির সুর,

পালক পেলে খুশিটা ওর আনন্দে ভরপুর।

 

ও পাখি, নীল পাখি তুই আমার কাছে আয়,

একটা ছবি রোজ দেখি ঠিক আমার জানালায়।

সজনে পাতায় কাঁপছে আলো, জরির কারুকাজ।

দেখ না কেমন নীল আকাশে মেঘ ভেসেছে আজ।

 

ও পাখি, নীল পাখি আয়, শান্ত হয়ে বোস,

আমার কথা শুনিস না তুই, এই বড় আফসোস।

হাওয়ায় ডানা ভাসাতে চাস, কোথায় যাবি উড়ে,

মাঠ পেরিয়ে, বন পেরিয়ে দূরের আকাশপুরে?

 

ও পাখি, নীল পাখি শোন, ইচ্ছে তো একটাই,

তোর কাছে তো আর কিছু নয়, একটা পালক চাই।

একা একা বসবো গিয়ে মাঠের কিনারাতে,

সত্যি বলছি, দেখ না খুশির বাঁশি আমার হাতে।

 

 

 

বৃষ্টির ছড়া

আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়

 

এখানে বৃষ্টি টাপুর টুপুর

ওখানে বৃষ্টি ঝম্

ওখানে বৃষ্টি মুষলধারায়

এখানে বৃষ্টি কম।

 

ওখানে বৃষ্টি ইলশেগুঁড়ি

এখানে বৃষ্টি বান

এখানে বৃষ্টি জাগাচ্ছে সুর

ওখানে বৃষ্টি গান।

 

এখানে বৃষ্টি অবিশ্রান্ত

ওখানে বৃষ্টি টুপ

ওখানে বৃষ্টি পাকাচ্ছে গোল

এখানে বৃষ্টি চুপ।

 

ওখানে বৃষ্টি জল ছড়াচ্ছে

এখানে বৃষ্টি শিল

এখানে বৃষ্টি ছন্দ জাগায়

ওখানে বৃষ্টি মিল।

 

এখানে বৃষ্টি ওখানে বৃষ্টি

সেখানে বৃষ্টি বেশ

বৃষ্টির কথা বলতে বলতে

বৃষ্টির ছড়া শেষ।

 

 

 

হারিয়ে যাওয়ার ডাক

টুম্পা মিত্র সরকার

 

হারিয়ে যাওয়ার ডাক এসেছে

শুনতে পেলে কারা?

দেখছো কেমন ঝুপঝুপিয়ে

নামছে রাতের তারা!

 

বলছে ওরা ভাবনা কীসের

কীসের এতো বাধা?

অতশত ভাবলে মিছে

লাগতে পারে ধাঁধা৷

 

হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হলেই

হারিয়ে যেতে পারো

চোখ খোলা থাক কিংবা বাঁধা

সমস্যা নেই তারও৷

 

কান পাতলেই শুনতে পারো

পাখির ডাকাডাকি

মেঘেরা সব হচ্ছে কেমন

মস্ত উড়োপাখি৷

 

ভাবনারা সব নদীর মতন

ভাসতে পারো তাতে

রঙকাগজের নৌকো চড়ে

ভাসবে দিনে-রাতে৷

 

 

 

বাংলা

অচিন্ত্যকুমার চক্রবর্তী

 

বাংলা আমার মায়ের ভাষা

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা বলি বাংলা লিখি

বাংলাতে গাই গান!

বাংলা বলে ঢাকের কাঠি

তাক কুড়াকুড় তাক

গুন গুন গুন বাংলা শোনায়

মৌমাছি এক ঝাঁক!

টাপুর-টুপুর বৃষ্টিধারায়

বাংলা ফুটে ওঠে

টগবগাবগ বাংলা দেখি

ঘোড়ার পিঠেও ছোটে!

ছলাত-ছলাত বাংলা শেখায়

নৌকো দাঁড়ের ঢেউ

কু-ঝিকঝিক বাংলা শেখে

রেলগাড়িতে কেউ!

কিচিরমিচির বাংলা বলে

শালিক দুটোর ছানা

হোক না বাড়ি আমেরিকা

চব্বিশ পরগনা!

 

 

 

বৃষ্টি ঝরাঝরি

শীতল চট্টোপাধ্যায়

 

আজ সে এলো ছুটে

বৃষ্টি হয়ে ফুটে,

টগরকুঁড়ির পাপড়ি চোখকে

ছুঁতেই জেগে উঠে।

 

এখান, ওখান, সেখান

বৃষ্টি ঝরাঝরি,

ইচ্ছে হলো বৃষ্টিমেয়ের

হাতটা-হাতে ধরি।

 

বৃষ্টি ঝরে গানে

বৃষ্টি কথা বলে,

হাঁটা থামার মানুষ দেখে

বৃষ্টি হেঁটে চলে।

 

বৃষ্টি সেতার-তারে

বর্ষা রাগে বাজে

মুখে-মুখে বৃষ্টি মেখে

পাতারা সব সাজে।

 

বৃষ্টি পুকুর জলে

ও জল বেজে ওঠে,

ছপাৎ-ছপাৎ জল পেরিয়ে

একটা ছেলে ছোটে।

 

 

 


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up