ছড়া-কবিতা
শীতের অতিথি
কাজী মুরশিদুল আরেফিন
অনেকদিনই দেখতে পাইনি
পথ ভুলে এলি নাকি?
কোথায় কাটালি এতগুলো মাস
আয় শীতে রোদ মাখি।
সাইবেরিয়ার খবর কেমন
ঠান্ডা কি খুব বেশি?
বরফে ঢেকেছে গাছপালা সব
মাঠ ঘাট, গোটা দেশই!
খাবার জোটেনি, বাঁচলি কীভাবে
পথ চিনেছিস ঠিকই,
ফিরবি আবার, জানতাম সেটা
এইখানে বাঁধা টিকি।
কুলিক নদীর দুই পাড়ে কত
পাখপাখালির ডেরা,
থাক না এখানে পরিযায়ী হয়ে
বারবার কেন ফেরা?
দু’বেলা আহার তিস্তাতে পাবি
এখানেও রোদ হাসে,
দোয়েল-কোয়েল-শালিকেরা তোকে
সকলেই ভালোবাসে।
কেন যে পালাস আমাদের ছেড়ে
নাচ কর প্রাণ খুলে,
গাছেরা তোদের স্বাগত জানাতে
সেজে আছে ফুলে ফুলে।
বলতে পারো?
শ্যামাচরণ কর্মকার
বলতে পারো কে এই ছেলে? কোনখানে তাঁর বাড়ি?
কোন ছেলেটি জন্মেছিলেন ১২ই জানুয়ারি?
ছোট্ট থেকেই এ কোন ছেলে বড্ড সাহস ধরেন।
কোন ছেলেকে শ্রীরামকৃষ্ণ দীক্ষা দিয়ে গড়েন?
কে বলো তো বুকটা ঠুকে বলেন জোর গলায়–
বেমদত্যির চিহ্নটি নেই এই চাঁপাগাছতলায়?
কোন ছেলেটির দু’চোখ থেকে ঝরে দিব্যজ্যোতি?
কোন ছোলটি বলেন, থেকো জীবের সেবায় ব্রতী?
কে এই ছেলে প্রদীপ জ্বেলে মোছান অন্ধকার?
বলেন–ওরে, সব ভাই ভাই, নয় ভেদাভেদ আর!
বলতে পারো কে এই ছেলে? দীন-দুঃখীর ত্রাতা?
সবার বুকে যে-ছেলেটির আজও আসন পাতা?
কার কথাতে বিবেক জাগে? উন্নত হয় শির?
সোজা থাকে শিরদাঁড়াটি জানো, কে এই বীর?
জানব না তা কক্ষনো হয়? চিনি যে এক-ডাকে
সোনার ছেলে নরেন্দ্রনাথ, প্রণাম জানাই তাঁকে!!
বইমেলা
তনুজা চক্রবর্তী
বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি
চলো যাই বইমেলা বই কিনে আনি।
আছে পাখি, আছে ফুল, কত রূপ নিয়ে
চাঁদবুড়ি সুতো কেটে কাকে আসে দিয়ে?
রাত গেলে ফেরে দিন, নিয়মের দাস
অঙ্কেতে কত পেয়ে করে ওরা পাস!
নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর পেতে
বলো কারা রাজি আছো মেলা-মাঠে যেতে?
মাঠ ভরা বইঘর ইশারায় ডাকে
বলে রাখো এক্ষুনি ছুটে গিয়ে মাকে।
শুরু হতে আর নেই খুব বেশি বাকি
এ মাসের বাইশেতে ভুলে গেলে নাকি!
বেশ তবে দিন গোনা হোক আজ থেকে
জেনে নিয়ো বন্ধুরা সাথে যাবে কে কে?
নামধাম
শৈলেন কুমার দত্ত
ছড়া-টড়া লিখব যে, কোথা মজা পাই
চারপাশে যা যা আছে সেদিকে তাকাই!
আজগুবি, হিজিবিজি, রঙ্গতে ঠাসা
ব্যঙ্গও কোথা যেন আছে ভাসা ভাসা!
ছন্দের মিল যেটা বড়ো খটো-মটো
ঠিকঠাক না হলে কী এতখানি চটো!
ছেলে-বুড়ো যেই দ্যাখে একসাথে হাসে
ছড়াটাকে সকলে যে কত ভালবাসে।
কোন ছড়া? কার ছড়া? কে লিখেছে সেটা?
বলো দেখি তাঁর নাম, তিনি কেউকেটা।
গোমড়ার হাসি পায়, কান্নাও থামে
রঙ্গ কী হুটোপুটি খেলে তাঁর নামে?
আঘাত যা মিশে আছে সূক্ষ্ম তা মাপে
ভারী কিছু নয় সেটা কোনো উত্তাপে।
এত কিছু বলে যায় কী যে নামধাম?
সুকুমার রায় তিনি, তাঁহাকে প্রণাম!
সবাই সমান
অচিন্ত্যকুমার চক্রবর্তী
ধবধবে সাদা হোক
কুচকুচে কালো !
পাখিদের পালকের
সব রঙ ভালো।
কেউ বেশ গোলগাল
কেউ রোগা বেশি!
নেই রোজ জিম-যোগা
তবু তারা খুশি।
পাখিদের সরু ঠোঁট
দেখে উঁচু গলা,
নেই কোন ফিসফিস
একে ওকে বলা!
কেউ খায় ঝাল ঝাল
কেউ বেশি টক,
এই নিয়ে কথা নেই
নেই বকবক!
কেউ বেশ নাচ করে
কেউ গায় গান,
এক-দুই কেউ নয়
সবাই সমান।
শীতের আমেজ
শক্তিপদ পন্ডিত
শীতের আমেজ কফি পানে
আড্ডা দিতে ক্লাবে,
হয় যদি সেই কফি হাউস
কলেজস্ট্রিটেই যাবে।
শীতের আমেজ পেতে হলে
যেতে হবে গ্রামে,
সবুজ খেত আর সোঁদা মাটি
পথের ডানে-বামে।
শীতের আমেজ একটু পেতে
চুমুক খেজুর রসে,
কুয়াশা ঘেরা ভোরের বেলা
গাছের গোড়ায় বসে।
শীতের আমেজ পাবেই খেলে
মায়ের হাতের পিঠে,
দুধপুলি আর সরুচাকলি
লাগবে বড় মিঠে।
পাঠকদের মন্তব্য
250