ছড়া-কবিতা
বই চিনি বই কিনি
কাজী মুরশিদুল আরেফিন
বইমেলা শুরু হলো
চলো বই কিনি,
ঠাকুমার ঝুলি আছে
পড়ি প্রতিদিনই।
ছড়া আর গল্পের
বই সারি সারি,
বই চিনে বই কিনে
মজা হয় ভারী।
কবিতার বই কেনে
হাওড়ার মাসি,
নাটকের নভেলের
বই পাশাপাশি।
ছবি আঁকা নানা বই
জ্ঞান বিজ্ঞানও,
বই পড়ে তোমরাও
কত কিছু জানো।
রিমি বলে অভিধান
চাই ঘরে ঘরে,
ভাইটাকে বই দিতে
ইচ্ছে তো করে।
বইমেলা শুরু হলে
দল বেঁধে যাবো,
বই কিনে লেখকের
অটোগ্রাফ পাবো।
ভয়
অচিন্ত্য সুরাল
এক যে ছিল ভয়
অন্ধকার বন্ধু ছিল তার,
বন্ধু এলেই খেল দেখাত
কেউ পেত না পার।
কেউ পেত না দেখতে ভয়ের মুখ
সব ছোটদের নাকাল করে
তার হতো খুব সুখ।
সন্ধে হলেই বন্ধ ঘরের দোর
ভূত-পেত্নির ভয়,
ছোট্টরা সব ভাবত অন্ধকারে
কী জানি কী হয়।
ভয় দেখিয়ে খুব খুশি ভয়
ডাকত হুক্কা হুয়া,
ভয় পেত খুব টুবলি-টুবাই
টুঙ্কু-টুটুন-টুয়া।
ভূতের গল্প বললে দাদু
সবাই জড়োসড়ো,
টুঙ্কু-টুবাই বন্ধ করে চোখ
কাঁপত থরোথরো।
ভূতের গল্পে ভূত ঢুকলে
সক্কলে টান টান,
"আর বলো না আর বলো না"–
ভীষণ ভয়ে টুবলি-টুয়া
ধরত চেপে কান।
ভয়ের তখন ভীষণ মজা
খিলখিলিয়ে হেসে,
বলত, কি রে কেমন লাগে
যাবি আমার দেশে ?
মুখ লুকাত অন্ধকার
ভোরের সূর্যোদয়ে,
আর তখনই ভয় পালাত
আলোর ভয়ে ভয়ে।
তখন মনে পড়ে
আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়
ব্যস্ত যখন মেঘ নিজেকে আঁকায়
বাতাস যখন খেলে বটের শাখায়
সকাল মেলে রূপোলি এক ঝালর
তারারা সব ফুলকি ফোটায় আলোর
ভ্রমর এসে বসে যখন ফুলে,
বন্ধ মনের দরজাটা যায় খুলে।
বৃষ্টি যখন মিষ্টি হাওয়ায় ভাসে
মেঘলা দিনে রৌদ্র যখন হাসে
ঢেউগুলো সব নাচে দীঘির জলে
নাচে ময়ূর বৃষ্টি হওয়ার ফলে
নদী যখন ব্যস্ত চলার গানে,
তখন বুঝি,গতিই জীবন মানে।
গাছরা যখন মেলে ছায়ার ছাতা
হাওয়ায় কাঁপে বন-খেজুরের পাতা
পাতার ফাঁকে রোদের যখন উঁকি
রাতটা যখন চাঁদের মুখোমুখি,
তখন এটা জেনেই লাগে ভালো
অন্ধকারের পাশেই থাকে আলো।
বাতাস যখন শোনায় আজান ধ্বনি
বাজে যখন মন্দিরে খঞ্জনি
জনের হাতে অর্চি পরায় রাখি,
রুকসানা-ঋক-তামান্না-বৈশাখী–
বন্ধু হয়ে হাতটা যখন ধরে,
দেশের কথাই তখন মনে পড়ে।
দুষ্টু-মিষ্টি শান্ত-দুরন্ত
প্রদীপ আচার্য
মিষ্টি মেয়ে রত্নাবলী
নাচ শিখেছে কথাকলি
নাচতে বললে গাইবে গান
না শুনলেই অভিমান।
দুষ্টু ছেলে দীপ্যমান
ছোট্ট থেকে শিখছে গান
গাইতে বললে নাচবে এমন
তিংড়ি বিংড়ি চিংড়ি যেমন।
শান্ত ছেলে শুভব্রত
আঁকবে ছবি দেখার মতো
আঁকতে যদি বলি হাঁস
আঁকবে গোরু খাচ্ছে ঘাস।
খুব দুরন্ত মেয়ে রাই
ভীষণ গুণী, দোষ একটাই
চুপ বললে খুব চেঁচায়
ডাইনে বললে বাঁদিকে যায়।
চাওয়া-পাওয়া
অচিন্ত্যকুমার চক্রবর্তী
শীত এলে রোদ চাই
রোদ পেলে শীত!
আমাদের চাওয়া-পাওয়া
বাঁকা কিঞ্চিত!
রঙচঙে পেয়ে বলি
সাদা পরা ভালো!
সাদা গায়ে দিয়ে বলি
চাই জমকালো!
গ্রামে থেকে বলি রোজ
শহরেই মজা!
শহরের ভিড়ে সেই
গ্রামটিকে খোঁজা!
বাড়ি বসে ভাবি শুধু
ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠি!
ফ্ল্যাটে গিয়ে বসতেই
ফের বাড়ি ছুটি!
ছোট ভাবে বড় হয়ে
খুশি পেতে চাই!
বড় জানে ভালো ছিল
ছোটবেলাটাই!
শীতের কাঁপন
বদ্রীনাথ পাল
শীত এসেছে ভোরের বেলা
কুয়াশাতে মুখটি ঢেকে-
লেপ তোষক আর কম্বলেতেও
কাঁপন ধরায় থেকে থেকে!
উওুরে বায় বইছে ধীরে
শুকনো পাতা খসছে গাছে-
মৌমাছিরা জুটছে সবাই
খেজুর রসের হাঁড়ির কাছে!
হলুদ রাঙা সর্ষে গাঁদা
দুলছে ওরা হাসছে মাঠে,
কড়াইশুটি পালং গাজর
আলো ছড়ায় বাজার হাটে!
ওই দেখোনা দাদু আমার
বয়স ভারে গেছে বেঁকে,
শীত তাড়াতে তাইতো দাদু
আগুন জ্বেলে হাত পা সেঁকে!
পাঠকদের মন্তব্য
250