ছোটোদের চাঁদের হাসি / ছড়া - কবিতা / এপ্রিল ২০২৬

ছড়া-কবিতা

 

বৈশাখ দিল ডাক

কাজী মুরশিদুল আরেফিন

 

নতুনের ডাক শুনে

ফিরে এলো বৈশাখ,

কবিতায় নাচে গানে

দিনগুলো ভ’রে থাক।

 

পাখিরাও ডানা মেলে

বহুদূর যেতে চায়,

ওরা আজ কবি রবি

ঠাকুরের গান গায়।

 

আম গাছে মুকুলের

গন্ধতে হয় ভোর,

দেবদারু পাতা দিয়ে

সেজে ওঠে ঘর দোর।

 

উঠোনেতে সকালেই

আলপনা তোরা আঁক,

নিম ফুলে মধু খেয়ে

মৌমাছি বাঁধে চাক।

 

শুকিয়েছে টলটলে

ছোটো সেই নদীটাও,

বৈশাখী ঝড় জলে

মলিনতা ধুয়ে দাও।

 

হালখাতা সেরে দাদু

হেসে বলে এই নাও

মিষ্টির হাঁড়ি থেকে

পান্তুয়া বোঁদে খাও।

 

 

জোর চমক

অচিন্ত্য সুরাল

 

দরজাতে কে দিচ্ছে নাড়া ?

দূর হ' তুই লক্ষ্মীছাড়া

খুলব না তো, খুলব না

আচ্ছা দাঁড়া একটা টুলে

চ'ড়ে না হয় দেখিই খুলে

থাক পুতুলের উল বোনা।

 

খুললে যদি...আচ্ছা থাক…!

না না, খুলে দেখাই যাক

কিন্তু যদি সেটাই হয় !

আর যদি না খুললে পরে

রাস্তাঘাটে কামড়ে ধরে

থাকগে' বাবা করছে ভয়।

 

ওই দ্যাখো, ফের দিচ্ছে নাড়া

এবার দিতে হবেই সাড়া

খুলেই দেখি যা হয় হোক

এই খুললাম, কিন্তু আরে

মিলিয়ে গেল কোন বাদাড়ে !

হঠাৎ যেন জোর চমক।

 

উলটে গেল কাঠের টুল

ছড়িয়ে গেল বোনার উল

কান ফাটানো কড়াৎকড়

পাল্লা খুলে দড়াম ক'রে

হুড়মুড়িয়ে ঢুকল ঘরে

চৈত্রমাসের দমকা ঝড়।

 

 

চৈত্র মানে

শঙ্খশুভ্র পাত্র

 

চৈত্র মাসের চিত্র এঁকে

চন্ডীচরণ চাটিয়াল,

ভুলেই গেলেন একসময়ে

ছিলেন বড় লাঠিয়াল!

 

এই তো সেদিন ভরদুপুরে

খুঁজতে গিয়ে খাঁটি আল,

জমির পরে জমি ঢুঁড়ে

পেলেন মাটি, ডাঁটিয়াল।

 

হয়তো সেটি এঁটেল ছিল–

চটচটে কি চাঁটিয়াল!

চণ্ডীচরণ হেসে বলেন,

চৈত্র মানেই ভাটিয়াল!

 

 

বৈশাখী

শ্যামাচরণ কর্মকার

 

চৈত্র শেষে বৈশাখ যেই আসে

বাতাস শোনায় দিনবদলের গান

এদিক ওদিক বৈশাখী সুর ভাসে

যায় ফুরিয়ে চৈত্রদিনের ঘ্রাণ।

 

নতুন সাজে সাজে বসুন্ধরা

নতুন পাতার মর্মর-সুর বনে

গাছগাছালি সবুজ পাতায় ভরা

দুখের ছোঁয়া হলুদ পাতার মনে।

 

কালবোশেখি ওড়ায় মলিন ধুলো

সজীবতা ফেরায় বৃষ্টি -ঝড়

ভুলতে থাকি হারানো দিনগুলো

নতুন আশার জাল বোনে অন্তর।

 

তাই বোশেখের অপেক্ষাতেই থাকি

বোশেখ আনে নতুন সূর্যোদয়

নতুন সুরে গান বেঁধে নেয় পাখি

বলে–জাগো, হোক আগামীর জয়।

 

বৈশাখী দিন অনেক কিছুই আনে

বছর শুরুর পরব ওড়ায় ঘুম

সিদ্ধিদাতার পুজোর খুশি প্রাণে

বাজার-হাটে 'নতুন খাতা'-র ধুম।

 

বোশেখ আঁকে কত খুশির ছবি

নতুন সকাল মোছে চৈতী রাত

চোখে ভাসে জোড়াসাঁকোর কবি

মাথায় রাখে আশীর্বাদের হাত।

 

 

গ্রামে : এই সেদিন

আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়

 

ছিল মেঘ ছিল জল

আর ছিল নদী থই থই

ছিল খাল ছিল বিল

ছিল নীল আকাশের বই।

 

ছিল ফল ছিল ফুল

আর ছিল পাতা লতা ঘাস

ছিল সুর ছিল গান

হুল্লোড়ও ছিল বারোমাস।

 

ছিল ঈদ ছিল দোল

আর ছিল পুজো-পুজো মন

ছিল হই ছিল চই

বারো মাসে তেরো পার্বণ।

 

ছিল ধান ছিল পান

আর ছিল 'সরিষা কলাই'

ছিল ঘর ছিল পথ

পথে ছিল ছুট পাঁই-পাঁই।

 

ছিল টুং ছিল টাং

আর ছিল ঘুঙুরের ঝুম

ছিল দিন ছিল রাত

রাতে নির্ভাবনার ঘুম।

 

ছিল মাঠ ছিল ঘাট

আর ছিল ধূ-ধূ ডাঙা,বন

ছিল লোক ছিল জন

ছিল তারা কত না আপন।

 

 

মজার ছড়া ভাল্লাগে

প্রদীপ আচার্য

 

তালের বড়ায় তাল লাগে

নাচতে গেলেও তাল লাগে

ধানি লঙ্কায় ঝাল লাগে

কড়া কথাতেও ঝাল লাগে

বোঁচকা বাঁধতে মাল লাগে

মালগাড়িতেও মাল লাগে

খুঁটি পুঁততে শাল লাগে

মাঘের শীতেও শাল লাগে

নৌকা বাইতে হাল লাগে

জমি চষতেও হাল লাগে

নকল বোঝাতে জাল লাগে

মাছ ধরতেও জাল লাগে।

ফুটুনি বোঝাতে চাল লাগে

ভাত রাঁধতেও চাল লাগে

কপাল বোঝাতে ভাল লাগে

মজার ছড়াও ভাল্লাগে।

 

 

রঙ্গন শিমুল

দীপিকা রায়

 

মৌমাছি সুর তোলে গুন গুন গুন

কৃষ্ণচূড়ার ডালে লেগেছে ফাগুন।

দিগন্ত ছুঁয়ে আছে রঙের তুফান

ভালো লাগা ভালোবাসা

জেগে ওঠে প্রাণ।

 

শুধু তো পলাশ নয় নানা রঙে ফুল

রূপের গরবে মরে রঙ্গন শিমুল।

চেয়ে দেখো মাঠে মাঠে হলুদের ঢেউ

সর্ষে ফুলের শোভা

দেখলে না কেউ।

 

যেদিকে তাকাই দেখি শুধু লালে লাল

না জানা কত না ফুলে সজ্জিত ডাল।

রঙমাখা উৎসবে মুখরিত পাড়া

আবির রাঙানো বনে

পড়ে গেছে সাড়া।

 

 

রহস্য

রবিন কুমার দাস

 

আকাশ ছুঁয়ে উড়োজাহাজ উড়ে

পৌঁছে দিল আমায় অনেক দূরে,

মেঘ পরীদের অনেক নিচে রেখে

ছড়িয়ে ডানা চলল এঁকে বেঁকে।

 

নিচে সাগর পাহাড় রাশি রাশি

মাথার ওপর দেখছি চাঁদের হাসি,

চাঁদের আলো আছড়ে পড়ে গায়

বলছে খোকা আমার দেশে আয়!

 

তখন আমি তফাৎ গড়ি তাতে

দূরত্বটা বাড়তে থাকে যাতে,

হাত বাড়িয়ে চাঁদ না নিয়ে যায়!

বন্ধ করি দুচোখ ভয়ে তাই।

 

চাঁদ শুধু এক রহস্যতে মোড়া

ইচ্ছেমত যায় না সেথায় ঘোরা,

বই পড়ে এক গোপন কথা জানি

চাঁদেতে নেই ঘরবাড়ি একখানি।

 

 

মোবাইল

সুলতা চ্যাটার্জি

 

মোবাইল মানুষের কর্মের সাথী,

তাই বলে ঠিক নয় বেশি মাতামাতি।

বাচ্চারা গেম ছাড়া বোঝে নাতো কিছু,

কিছুতেই ছাড়বে না যন্ত্রের পিছু।

মজার এই বস্তুটি হাতে যদি পায়,

পড়াশোনা, নাওয়া-খাওয়া সব ভুলে যায়।

মোবাইল দেখে দেখে মাথা, চোখ নষ্ট,

শারীরিক দিক থেকে পায় তারা কষ্ট।

বাচ্চারা যদি থাকে এর থেকে দূরে,

জীবনটা শুরু হবে খুব সুমধুর সুরে ।

দরকারী সবকাজ মোবাইল পারে,

লাগিও না কাজে একে অপব্যবহারে।


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up